লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে নেই সাকিব আল হাসান। তবে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই আলোচনায় সাকিবের আবার মাঠে ফেরার বিষয়টি। গত জানুয়ারিতে মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রথম ইংগিত দেয় সাকিবকে মাঠে ফেরানোর।
বিসিবির একাধিক পরিচালকের কথায় মনে হয়েছিল, আগামী পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশের জার্সিতে আবার মাঠে ফিরবেন সাকিব। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও জানিয়েছিলেন, সাকিবকে মাঠে ফেরাতে চেষ্টা করবে সরকার। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর গতকালের সুর ছিল ভিন্ন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গতকাল জানিয়েছেন, আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেদের মামলা লড়ে নিরাপরাধ প্রমাণ করতে পারলেই বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারবেন সাকিব।
বিজ্ঞাপন
এদিকে সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে আজ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। তিনি বলেন, ‘যে মামলার ব্যাপারে আমি যত দূর জানি একটা খুনের মামলায় (আসামি) করা হয়েছে। দেখুন আমাদের দেশে অনেক মামলা হয়। হয়তো দেখা যায় ভুল মামলা। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত এই যে সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার...একজন রিকশাওয়ালা ভদ্রলোক মানুষ তো। তার তো জান আছে। সব মানুষকেই আমাদের সম্মান করতে হবে। সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার বিদেশ থেকে মারবে, আমার কাছে এটা সন্দিহান মনে হয়। আমার কাছে মনে হয় না এটা ভালো জিনিস। সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত, যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তার একটা সঠিক সমাধান হওয়া উচিত যে সেই ব্যক্তি কোন ভিত্তিতে মামলা করেছিলেন। রাজনৈতিক মামলা আলাদা। যে ব্যক্তি মামলা করেছেন, ধরুন আমাদের দেশের এক সম্মানীয় ব্যক্তি মামলা করে কাউকে হয়রানি করলেন। এটা তো অন্যায়। আমি মনে করি না যে সাকিব এ ধরনের কাজ করতে পারে।’
খেলোয়াড় থাকা অবস্থায়ই রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে সব সময় মনে করতাম, কোনো খেলোয়াড়েরই যখন সে খেলোয়াড় হিসেবে থাকবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকা উচিত না। ব্যক্তিগত মতামত এটা। যখন সে খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর সমস্ত আবেগ থাকে খেলার ওপর। যখনই আপনি একটা দলের সঙ্গে জড়াবেন, তখনই বলব যে একটা ভাগাভাগি হয়ে যায়। জাতীয় দলে যখন খেলবেন, তখন আমার মনে হয় দলের সঙ্গে না থাকা ভালো।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন ব্যক্তিগতভাবে খালেদ মাসুদ পাইলট হিসেবে বলতে পারি যে আমি সাকিবের বড় ভক্ত। আমি সব সময় মনে করি, মানুষ মাত্রই ভুল হয়। সে হয়তো খেলা অবস্থায় কোনো একটা দলের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছিল। হয়তো সে ৬ মাসের জন্য একটা ভুল করেছিল। কিন্তু । অল্প বয়সে একটা ভুল করে ফেলেছে। জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে এমন কিছু করেনি। তাকে সম্মান দেওয়া উচিত। আমি সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করি সে যেন বাংলাদেশের জার্সি পরে এখান থেকে অবসর নেয়। বাংলাদেশের এক নম্বর ক্রিকেটার সে।’

