শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ৬১ রানের জোরালো জয় সরাসরি পাকিস্তানকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেয়নি। তবে সেমিফাইনালে ওঠার পথকে করে তুলেছে অনেক বেশি কঠিন, এবং অনেকটাই অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
এখন সুপার এইটের গ্রুপ ২–এর চিত্র মোটামুটি পরিষ্কার। ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইতিমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ড উঠেছে ৩ পয়েন্টে। ইংল্যান্ডের কাছে হার এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের ঝুলিতে আছে ১ পয়েন্ট। দুই ম্যাচ হেরে শূন্য পয়েন্টে থাকা শ্রীলঙ্কা বিদায় নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
নেট রানরেট (এনআরআর) হিসাবেও পার্থক্য স্পষ্ট। নিউজিল্যান্ডের এনআরআর +৩.০৫০, যেখানে পাকিস্তানের -০.৪৬১। অর্থাৎ ব্যবধান ৩.৫১১- ছোট পরিসরের এই পর্বে যা বিশাল। পয়েন্টের হিসাবে পাকিস্তান এখনো টিকে আছে। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে তারা ৩ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু এখন আর শুধু নিজেদের জিতলেই হবে না। ইংল্যান্ডকে হারাতে হবে নিউজিল্যান্ডকে- এই শর্তও পূরণ হতে হবে।
সমীকরণটা এমন: নিউজিল্যান্ড যদি ইংল্যান্ডকে হারায়, তাহলে তারা ৫ পয়েন্টে উঠে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে। কিন্তু নিউজিল্যান্ড যদি হারে, তাহলে তারা ৩ পয়েন্টেই থাকবে। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাকে হারালে পয়েন্টে সমতা আনতে পারবে।
সমস্যাটা তৈরি হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বড় ব্যবধানে জয়ের কারণেই। ৬১ রানের জয়ে তাদের নেট রানরেট লাফিয়ে বেড়েছে। পাকিস্তানের তুলনায় ব্যবধান এত বেশি যে, শুধু জয় নয়- বড় ব্যবধানে জয় দরকার হবে তাদের। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের জয়ে নিউজিল্যান্ডের এনআরআরও কিছুটা কমে যাওয়ার আশা করতে হবে।
এই কারণেই গ্রুপের আবহ বদলে গেছে। ম্যাচের আগে পাকিস্তানের সমীকরণ ছিল কঠিন, কিন্তু দুই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভরশীল একটি স্বাভাবিক সমীকরণ। এখন সেটি দাঁড়িয়েছে- দুই ফলের পাশাপাশি বিশাল নেট রানরেটের পাহাড় টপকানোর চ্যালেঞ্জ। তাত্ত্বিকভাবে পাকিস্তানের আশা এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু বাস্তবে সেই আশা ভঙ্গুর। ইংল্যান্ডের সহায়তা দরকার, আর নিজেদের শেষ ম্যাচে চাই জোরালো বার্তা দেওয়া জয়। নিউজিল্যান্ড এখনো পাকিস্তানের অভিযান শেষ করে দেয়নি, তবে তাদের বিদায়ের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।

