আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ পাকিস্তানের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেশটির কিছু গণমাধ্যমের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের একাংশের গণমাধ্যম নিজেদের খেলোয়াড়দের ওপর অযথা চাপ তৈরি করে। একই সঙ্গে তার দাবি, ভারত হারলে ওই মাধ্যমগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়, কিন্তু পাকিস্তান হারলে তারা নীরব থাকে।
সুপার এইট পর্বে প্রথম দুই ম্যাচ থেকে পাকিস্তানের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। পরের ম্যাচে হেরে ছন্দ হারায় দলটি। গ্রুপপর্বে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ৩।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য পাকিস্তানকে অন্য ম্যাচের ফল ও আবহাওয়ার দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড ইতিমধ্যে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। বাকি একটি জায়গার জন্য লড়াইয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা- দুই দলেরই এখনও দুটি করে ম্যাচ বাকি।
এক্স (সাবেক টুইটার)–এ পাঠান লেখেন, “এই পাকিস্তান দল চাপ ভালোভাবে সামলাতে পারে না। তাদের সংগ্রামের পেছনে নিজেদের ট্রলমুখী গণমাধ্যমেরও বড় ভূমিকা আছে। তারা সত্যিকারের সমর্থন দেয় না, বরং খেলোয়াড়দের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে। তাদের কাছে সবকিছুই ‘রিচ’ বা প্রচারের বিষয়।”
তিনি আরও লেখেন, “ভারত হারলে (যা খুব কমই হয়) তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ফেলে। কিন্তু নিজেদের দল হারলে ইঁদুরের মতো গা ঢাকা দেয়। আমরা তো ওরা আমাদের সঙ্গে না খেললে তা নিয়েও ভাবি না, বিশেষ কোনো ম্যাচ না হলে।”
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৪ রান তোলে। সাহিবজাদা ফারহান ৪৫ বলে ৬৩ রান করে ইনিংসের নেতৃত্ব দেন; মারেন সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। বাবর আজম, ফখর জামান ও শাদাব খানের ছোট ছোট অবদানেও লড়াইয়ের পুঁজি পায় দলটি। ইংল্যান্ডের হয়ে লিয়াম ডসন ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন সেরা বোলার (৩/২৪)। জোফরা আর্চার ও জেমি ওভারটন নেন দুটি করে উইকেট।
বিজ্ঞাপন
জবাবে ইংল্যান্ড শুরুতেই চাপে পড়ে ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারায়। তবে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ৫১ বলে ১০০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। উইল জ্যাকস ও স্যাম কারানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। শেষ দিকে পাকিস্তানি বোলাররা চাপ তৈরি করলেও পাঁচ বল হাতে রেখে দুই উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।

