সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও অধিনায়ক মোহাম্মদ আমিনুল হক এখন দেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। নতুন সরকার গঠনের পর এই দায়িত্ব পাওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন এবং শেষমেশ তিনিই এই পদে এসেছেন। খেলাধুলার অভিভাবক হিসেবে তার দায়িত্ব নেওয়ায় অনেকের মধ্যে আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই আমিনুল হক ক্রিকেট নিয়ে বেশ সরব ছিলেন। ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), বোর্ডের নির্বাচন, পরিচালনা সবকিছু নিয়েই তিনি খোলামেলা মতামত দিয়েছেন। এখন বড় দায়িত্বে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিসিবিতে কি কোনো বড় পরিবর্তন আনবেন তিনি?
বিজ্ঞাপন
এদিকে বিসিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি এক ইফতার অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের সামনে বিসিবি পরিচালক ও ফিন্যান্স কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলাম বলেন, 'আমিনুল হক আগে যা বলতেন, এখন হয়তো সেভাবে বলছেন না। সরকারে যোগ দেওয়ার আগে-পরে কথার ধরনে পার্থক্য থাকতে পারে। তিনি আহ্বান জানান, দায়িত্বের জায়গা থেকে দায়িত্বশীলভাবে কথা বলা ভালো।'
একই অনুষ্ঠানে আরেক পরিচালক আসিফ আকবর আমিনুল হকের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরপরই আমিনুল হক বিসিবির সিইওকে ফোন করে গণমাধ্যমকর্মীদের বোর্ডে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। আসিফের মতে, এটা একটা ‘হিরোইক’ ভঙ্গি হলেও শোভনীয় নয়। সিইও চাকরিজীবী হিসেবে মেনে নিতে পারেন, কিন্তু বোর্ড পরিচালকরা তো চাকরি করেন না। এ ধরনের হস্তক্ষেপ নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে।'
এছাড়া আসিফ আকবর এক অনুষ্ঠানে নাজমুল ইসলামকে দেশের অর্থমন্ত্রী বানানোর মতো কথাও বলেছেন বলে জানা যায়। এর জবাবে নাজমুল বলেন, 'এটা তার ব্যক্তিগত মতামত। ফিন্যান্স কমিটি চালানো আর দেশের অর্থ মন্ত্রণালয় চালানো এক নয়, তার এখনো সেই যোগ্যতা হয়নি বলে মনে করেন তিনি।'
বোর্ডের কাজকর্ম নিয়ে নাজমুলের বক্তব্য, আগের মতোই চলছে সবকিছু। বিসিবি একটা নির্বাচিত সংস্থা, সরকারও নির্বাচিত। সবাই নিজ নিজ নিয়মে চলবে। সরকার যেভাবে বিবেচনা করবে, সেভাবেই এগোবে। আদালতে চলমান বিসিবি নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন, কারণ বিষয়টি বিচারাধীন।

