পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটসম্যান বাসিত আলি শাদাব খানের মন্তব্যের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শাদাব দাবি করেছিলেন, বর্তমান দলকে সমালোচনা করা সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কেউই নিজেদের সময়ে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জিততে পারেননি, এই বক্তব্য ঘিরেই বিতর্ক শুরু হয়।
শাদাব খানের এই মন্তব্য আসে যখন বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর তাকে, বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদিকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন। সালমান আলি আগার নেতৃত্বে দলটির হতাশাজনক পরাজয়ের পর সমালোচনা বাড়তেই থাকে।
বিজ্ঞাপন
নামিবিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর শাদাব বলেন, সাবেক ক্রিকেটারদের নিজস্ব মতামত থাকতে পারে, তারা দেশের জন্য ভালো খেলেছেন, কিন্তু বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জয় পাননি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২১ সালের বিশ্বকাপে বাবর আজমের নেতৃত্বে পাকিস্তান ১০ উইকেটে ভারতকে হারিয়েছিল যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের একমাত্র জয়।
এই মন্তব্যের জবাবে বাসিত আলি অভিযোগ করেন, শাদাবের দলে জায়গা পাওয়ার পেছনে প্রধান প্রশিক্ষক মাইক হেসনেরর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে কেন শাদাবকে ওপরের দিকে ব্যাট করতে পাঠানো হয়। বাসিত বলেন, যদি ইনজামাম, ওয়াকার বা সাকলাইন দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে শাদাবের অবস্থান ভিন্ন হতো।
বিশেষ করে তিনি স্পিন কিংবদন্তি সাকলাইন মুশ্রতাকের নাম উল্লেখ করে বলেন, “সাকলাইন কি ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় ছিলেন না? সাকলাইনের মতো একজন বোলারের সামনে শাদাবের মতো দশজন পকেটে থাকত।” বাসিত আরও বলেন, নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের শুরুর দিকের খেলোয়াড়রা কেবল মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দলে জায়গা পেতেন, ভেতরের সুপারিশে নয়।
এদিকে, সাবেক ব্যাটিং প্রশিক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ মনে করেন, ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে বড় জয়ের পর দল আত্মতুষ্টিতে ভুগতে শুরু করে। তিনি বলেন, সেই জয়ের পর অনেকেই ভাবতে শুরু করে যে তাদের চেয়ে ভালো কেউ নেই। ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলাও নষ্ট হতে থাকে। তিনি উদাহরণ দেন ইনজামাম উল হক ও সাইদ আনোয়ার, যারা বড় তারকা হয়েও কোচদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।

