রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই অস্ট্রেলিয়া, এই সমীকরণ বহুদিনের। বড় মঞ্চে চাপ সামলাতে তারা ওস্তাদ, আর টুর্নামেন্টের শুরুর দিকের হোঁচটকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে বদলে দেওয়ার ইতিহাসও আছে তাদের। কিন্তু এবার যেন ছবিটা একটু আলাদা। গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানে হেরে বড় বিপদে পড়েছে অজিরা। ‘বি’ গ্রুপে এখন তাদের অবস্থান তিন নম্বরে। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে পয়েন্ট ২, নেট রান রেট +১.১০০।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে দুই দলই টানা দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট করে তুলে নিয়েছে। নেট রান রেটেও এগিয়ে তারা। ফলে কাগজে–কলমে হিসাব বলছে, অস্ট্রেলিয়ার পথ এখন অনেক কঠিন। গ্রুপ থেকে সুপার এইটে উঠবে শীর্ষ দুই দল। অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাকি আছে শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ। দুই ম্যাচ জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ৬। কিন্তু তাতেও নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েরও ৬ পয়েন্টে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তখন সিদ্ধান্ত হবে নেট রান রেটে।

১৬ ফেব্রুয়ারির শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি তাই কার্যত ‘ডু অর ডাই’। হারলে বিদায় প্রায় নিশ্চিত। জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে। শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়ও জরুরি হয়ে পড়েছে। ২০০৭ বিশ্বকাপেও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তখন রিকি পন্টিংয়ের দল দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। এবার পরিস্থিতি আলাদা। প্রতিপক্ষরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, আর অস্ট্রেলিয়ার শিবিরে চোটের ছায়া।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চোটে ছিটকে যান প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড। বিশ্বকাপে এসে অনুশীলনে চোট পান অধিনায়ক মিচেল মার্শ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। তার জায়গায় নেতৃত্ব দেন ট্রাভিস হেড, কিন্তু ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন।

এরপর নতুন দুশ্চিন্তা মার্কাস স্টয়নিসকে ঘিরে। বোলিংয়ের সময় আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। পরে ব্যাট হাতে নামলেও বড় কিছু করতে পারেননি। অথচ সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে তিনি ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উইকেট এনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল তার। দলীয় ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে, স্টয়নিসের চোট কতটা গুরুতর তা পরীক্ষা–নিরীক্ষার পরই জানা যাবে। ফলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে তার খেলা এখনো অনিশ্চিত।

২০২১ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে বিশ্বকাপ মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিকতা চোখে পড়ার মতো নয়। পরের দুই আসরে তারা সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। এবার তো প্রথম রাউন্ডই পার হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায়। সামনে দুই ম্যাচ, ভুলের সুযোগ নেই। শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে দাপটের সঙ্গে। নেট রান রেটের সমীকরণও রাখতে হবে মাথায়।

এসটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর