বিশ্বকাপে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল ইতালি। মুম্বাইয়ে গ্যালারির বড় অংশ নেপালের সমর্থনে থাকলেও মাঠে আধিপত্য দেখিয়েছে আজ্জুরিরা। আগে বল হাতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং, পরে ব্যাট হাতে দুই ভাই জাস্টিন ও অ্যান্থনি মস্কার তাণ্ডবে সাত ওভারের বেশি বাকি থাকতেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইতালি।
ব্যাট করতে নেমে নেপাল শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পায়নি। ধীরগতির উইকেটে ইতালির স্পিন আক্রমণ ছিল দুর্দান্ত। ক্রিশান কালুগামাগে, বেন মানেন্তি ও জে জে স্মাটস মিলে ১২ ওভারে দেন মাত্র ৪৯ রান, নেন ৬ উইকেট। নেপালের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৪ বলে ২৭ রান করেন আসিফ শেখ যা একটি কম সংগ্রহের ইঙ্গিতই দেয়।
বিজ্ঞাপন
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইতালি কোনো ঝুঁকি নেয়নি, বরং আক্রমণেই গেছে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান অ্যান্থনি মস্কা। কিছুটা সময় নিয়ে শুরু করলেও দ্রুতই গতি তোলেন জাস্টিন। ৩৭ বলে আগে ফিফটি করেন জাস্টিন, অ্যান্থনি ২৮ বলেই পৌঁছে যান মাইলফলকে। শেষ পর্যন্ত কভারে সিঙ্গেল নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন অ্যান্থনিই।
পাওয়ারপ্লেতেই ৬৮ রান তুলে ম্যাচ প্রায় বের করে নেয় ইতালি। নেপালের প্রধান অস্ত্র লেগস্পিনার সন্দীপ লামিচানে আক্রমণে এলেও থামাতে পারেননি দুই ভাইকে। তাদের এই জুটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সহোদরদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে, স্কটল্যান্ডের ক্যাথরিন ও সারাহ ব্রাইসের ১১৯ রানের জুটি পেছনে ফেলে।
এই ম্যাচে ইতালি খেলেছে অধিনায়ক ওয়েইন ম্যাডসেনকে ছাড়াই। তার বদলে নেতৃত্ব দেন হ্যারি মানেন্তি, বেন মানেন্তির ছোট ভাই। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আগের ম্যাচে (স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে) সেটা পারিনি, আজ দেখাতে পেরেছি আমরা কী করতে পারি।”
ওয়াংখেড়ের উইকেট আগের দিনের মতোই স্পিন সহায়ক ছিল। শুরুতেই বেন মানেন্তির মেডেন ওভারে চাপে পড়ে নেপাল। কুশল ভুর্তেল ১০ বলে করেন মাত্র কয়েক রান, পরে আউট হন। পাওয়ারপ্লে শেষে নেপাল ছিল ৪৬/১, তবে এরপরই চাকা ঘুরে যায়।
বিজ্ঞাপন
কালুগামাগের গুগলিতে আউট হন পাওডেল, মানেন্তির আর্ম বলে ভারসাম্য হারিয়ে স্টাম্পড আসিফ শেখ। এরপর আরিফ শেখ ও দীপেন্দ্র সিং আইরির ৪৪ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে। কিন্তু কালুগামাগের আরেক গুগলিতে আইরি বোল্ড হলে শুরু হয় ধস।
৯৩/৩ থেকে নেপাল গুটিয়ে যায় ১০২/৮-এ। শেষ দিকে করণ কেসির কয়েকটি বাউন্ডারি দর্শকদের কিছুটা উজ্জীবিত করলেও নির্ধারিত ওভার শেষ করার আগেই অলআউট হয়ে যায় নেপাল। বল হাতে নিয়ন্ত্রণ আর ব্যাট হাতে মস্কা ভ্রাতৃদ্বয়ের দাপটে ইতালি পেয়ে গেল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় যা বিশ্বমঞ্চে তাদের উপস্থিতির শক্ত বার্তাই দিয়ে গেল।

