রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করলো বাংলাদেশের যুবারা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ এএম

শেয়ার করুন:

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করলো বাংলাদেশের যুবারা

বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা খেলা বন্ধ রাখা হয়েছিল। শুরুতেই দুই দল থেকেই কাটা হয় এক ওভার। ভারতের দেওয়া ২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাট করতে নামলে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত ২৯ ওভারে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ১৬৫ রান।

বুলাওয়ায়োতে শনিবার লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশের জুনিয়র টাইগাররা। কিন্তু বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ১৮ রানের পরাজয় দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ।


বিজ্ঞাপন


আল ফাহাদের দুর্দান্ত বোলিং ও বাকিদের অবদানে ভারতকে ২৩৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। পরে রান তাড়ায় শুরুটাও দারুণ করে তারা, ১৭.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে করে ৯০ রান। এরপর বৃষ্টি হানা দিলে বাঁধে বিপত্তি। এলোমেলো ব্যাটিংয়ে ২২ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি যুবারা।

প্রকৃতির বাগড়ার পর পুনরায় খেলা শুরু হলে ডাকওয়ার্থ-লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রানের। বৃষ্টির পর ৮ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৭০ বলে ৭৫ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি আজিজুল, রিজানরা।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামান ভারতের সহ-অধিনায়ক ভিহান মালহোত্রা। বৃষ্টির পর অফ স্পিনে ৪ ওভারে স্রেফ ১৪ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।

ম্যাচের প্রথমভাগে বল হাতে আলো ছড়ান ফাহাদ। বাংলাদেশের অষ্টম বোলার হিসেবে যুব ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। ভারতের বিপক্ষে এদিন ৩৮ রানে পাঁচ শিকার ধরেন এই পেসার।


বিজ্ঞাপন


পুরো ম্যাচে ফিফটি করেন কেবল তিনজন। ভারতের বিস্ময় বালক বৈভাব সুরিয়াভানশি ৩ ছক্কা ও ৬টি চারে করেন ৭২ রান। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩ ছক্কা ও ৪টি চারে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞান কুন্ডু। বাংলাদেশের আজিজুল এক ছক্কা ও চারটি চারে করেন ৫১।

ম্যাচ শুরুর আগে একদফা নামে বৃষ্টি। তাতে টস হয় দেরিতে। আজিজুল অসুস্থ অনুভব করায় টস করতে যান জাওয়াদ আবরার। টস শেষে দুই দলের অধিনায়ক হাত মেলাননি। যা নিয়ে পরে চলে আলোচনা-সমালোচনা। বিসিবি অবশ্য পরে বিবৃতি দিয়ে জানায়, ওই কাণ্ডটি ‘অনিচ্ছাকৃত’ হয়ে গেছে।

কন্ডিশন বিবেচনায় টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ভারতকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারের শেষ দুই বলে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে ও ভেদান্ত ত্রিভেদিকে ফিরিয়ে দেন ফাহাদ। কাভারে ধরা পড়েন মাত্রে, স্লিপে ক্যাচ দেন ভেদান্ত।

অনেকটা সময় ক্রিজে কাটানো ভিহানের প্রতিরোধ ভাঙেন আজিজুল। এরপর সুরিয়াভানশি ও অভিজ্ঞান মিলে দলকে কক্ষপথে ফেরান। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান সুরিয়াভানশি দলের প্রয়োজনে এদিন নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে রাখেন। ৩০ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন এই ওপেনার।

৬৭ বল খেলা সুরিয়াভানশিকে ফিরিয়ে ৬২ রানের জুটি ভাঙেন ইকবাল হোসেন। পরের ওভারে এই পেসার ফিরিয়ে দেন হারভানশকেও।

এরপর কানিস্ক চৌহানকে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়েন অভিজ্ঞান। মন্থর ব্যাটিংয়ে ৮২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। কানিস্ককে ফিরিয়ে তাদের যুগলবন্দি ভাঙেন আজিজুল।

৩৯তম ওভার শেষে আরেক দফা বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ থাকে এক ঘণ্টার বেশি সময়। পরে এক ওভার কমিয়ে দেওয়া হয় ম্যাচের দৈর্ঘ্য।

বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে শেষের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দলের রান সোয়া দুইশ পর্যন্ত নিয়ে যান অভিজ্ঞান। নিজের পরপর তিন ওভারে খিলান, অভিজ্ঞান ও দিপেশ দেভেন্দ্রকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি ভারতের ইনিংস গুটিয়ে দেন ফাহাদ।

রান তাড়ায় চতুর্থ বলেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দিপেশের বলে ডিপ থার্ডম্যানে ধরা পড়েন জাওয়াদ আবরার। পরে দলকে টানেন রিফাত বেগ ও আজিজুল। চমৎকার খেলতে থাকা রিফাত এক ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৭ বলে ৩৭ রানে বিদায় নিলে ভাঙে ৫৬ রানের জুটি।

বাংলাদেশের ইনিংসের ১৮তম ওভারের মাঝে ফের বৃষ্টি দেয় হানা। তখন খেলা হয়নি প্রায় দেড় ঘণ্টা। তাতেই ইনিংসের দৈর্ঘ্য কমে আসে ২৯ ওভারে।

কালাম ও আজিজুলের ব্যাটে লক্ষ্যের দিকে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। ২২ ওভারে ম্যাচে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই প্রতিপক্ষ শিবিরে ছোবল হানেন ভিহান। তার দ্বিতীয় ডেলিভারিটি ছক্কার চেষ্টায় উপরে তুলে দেন কালাম। তার ক্যাচ মুঠোয় জমিয়ে ৪৪ রানের জুটি ভাঙেন ভিহানই।

পরের ওভারে খিলানকে ছক্কায় ওড়ান আজিজুল। কিন্তু তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি পারভেজ জীবন। ভিহানের বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি। ২৫তম ওভারে আজিজুল বিদায়ের পরও ম্যাচ হাতেই ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ৫ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ২৮ বলে ৩৯ রান করতে পারেনি দলটি।

একের পর এক উইকেট হারিয়ে পুরো ২৯ ওভারই খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ভিহানের বলে ছক্কার চেষ্টায় বাউন্ডারিতে সুরিয়াভানশির দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন সামিউন বাশির। খিলানকে ল্যাপ সুইপ খেলে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন ফরিদ হোসেন। ওই ওভারে দুটি চার মেরে সমীকরণ ১২ বলে ২২ রানে নিয়ে আসেন রিজান।

কিন্তু পরের ওভারে ভিহানকে ছক্কার চেষ্টায় তিনিও বিদায় নেন। ওই ওভারে রান আউট হন ফাহাদ। শেষ ওভারে ইকবালের বিদায়ে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ, উল্লাসে মাতে ভারত।

ম্যাচ শেষে দুই দলের ক্রিকেটারদের দেখা গেছে হাত মেলাতে।

আগামী মঙ্গলবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর