যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপে ইরানের জায়গা বদলের বিষয়ে একটি স্পষ্ট নজির তৈরি করেছে ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেছিল ইরান। গত ডিসেম্বরের ড্রয়ে তারা বেলজিয়াম ও মিসরের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়ে। তবে ড্র অনুষ্ঠান ঘিরেই উত্তেজনা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানের পুরো প্রতিনিধিদলকে ভিসা না দেওয়ায় ড্র বয়কটের হুমকি দিয়েছিল তেহরান। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে ইরান। তবে খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য বিশেষ ছাড় থাকায় আপাতত ইরান ফুটবল দল ও সাপোর্ট স্টাফরা গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবে।
কিন্তু গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সামরিক অভিযানে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৬৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বিবিসি পার্সিয়ানকে দেওয়া স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের মরদেহ ফেরত দিতে নিরাপত্তা বাহিনী বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করছে।
প্রথমে সাইবার হামলার হুমকি দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘খুবই কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা বলেছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকিও দিয়েছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদি ইরান নিজে থেকে সরে দাঁড়ায় বা কোনো কারণে খেলতে না পারে, তাহলে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী সেই দলকে বদলে দেওয়া হবে। ফিফার বিধিতে বলা আছে, “যদি কোনো দল অংশ নিতে না পারে, তাহলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বাছাইপর্বের রানার্সআপ বা ওই কনফেডারেশনের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংপ্রাপ্ত কিন্তু কোয়ালিফাই করতে না পারা দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
বিজ্ঞাপন
এই ক্ষেত্রে দুটি সম্ভাব্য বিকল্প সামনে আসছে। প্রথমটি হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যারা ইরানের পেছনে থেকে গ্রুপে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল এবং পরে এশিয়ান প্লে-অফে ইরাকের কাছে হেরেছে। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে ইরাককে সরাসরি বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে, আর ইউএইকে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে পাঠানোর কথাও ভাবা যেতে পারে।
ফিফার নিয়মে আরও বলা আছে, “যদি সময়, ভিসা বা ভ্রমণসংক্রান্ত কারণে বদলি করা বাস্তবসম্মত না হয়, তাহলে সূচি অপরিবর্তিত রেখে অন্য দলকে গ্রুপে যুক্ত করা যেতে পারে, অথবা ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে গ্রুপ বিন্যাস বদলানো হতে পারে।”
ইরাক ট্রাম্পের পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় না থাকলেও, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র যে ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত করেছে, সেখানে ইরাকের নাম রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সাধারণ ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে দল প্রত্যাহারের সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫০ সালে। সেবার ভারত ও ফ্রান্স ড্রয়ের পরই সরে দাঁড়ায়। ভারত ভ্রমণ ব্যয়, প্রস্তুতির অভাব ও দল গঠনের সমস্যার কথা জানায়, আর ফ্রান্স আপত্তি তোলে গ্রুপপর্বে অতিরিক্ত ভ্রমণের কারণে। তখন পর্যাপ্ত সময় না থাকায় বদলি দল আনা সম্ভব হয়নি এবং পরিকল্পিত ১৫ দলের বদলে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মাত্র ১৩ দল নিয়ে।

