সাবেক ইংল্যান্ড পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড জোর দিয়ে বলেছেন, চলতি শীতে অ্যালকোহল–সংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনার পরও বর্তমান ইংল্যান্ড দলে কোনো ‘মদ্যপানের সংস্কৃতি’ বা ড্রিংকিং সমস্যা নেই।
নিজের পডকাস্টে ব্রড বলেন, “কয়েকজন খেলোয়াড় কিছু ভুল করেছে, যেগুলো মিডিয়ায় এসেছে, ব্যাপারটা মূলত এতটুকুই। এতে দলগত কোনো বড় সমস্যা আছে, এমনটা নয়।”
বিজ্ঞাপন
এই শীতে ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক নিউজিল্যান্ডে এক বাউন্সারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে জরিমানার মুখে পড়েন। এছাড়া অ্যাশেজ সিরিজের মাঝপথে নুসায় বিরতির সময় একাধিক দিনে খেলোয়াড়দের মদ্যপ অবস্থার ছবি প্রকাশিত হয়, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।
ব্রডের মতে, শক্তিশালী দলীয় সংস্কৃতির মূল বিষয় হলো সতীর্থদের দায়িত্ববোধ। “একটা শক্ত কালচার থাকলে সতীর্থরা একে অন্যকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে দেয় না। বেন ডাকেট যেন একা কোথাও পড়ে না থাকে, হ্যারি ব্রুক যেন বাউন্সারের সঙ্গে ঝামেলায় না জড়ায়- এগুলো নিশ্চিত করাটাই টিমমেটদের কাজ। আমি মনে করি এখানেই ব্রেন্ডন ম্যাককালাম সবচেয়ে বেশি হতাশ হবেন,” বলেন ব্রড।
কিছু মহলে ইংল্যান্ড দলে মধ্যরাতের কারফিউ আরোপের প্রস্তাব উঠলেও ব্রড সেটিকে বাড়াবাড়ি বলেই মনে করেন। “আমি কখনোই রাত ১২টার কারফিউ পছন্দ করতাম না। আপনার চারপাশে যদি সঠিক মানুষ থাকে, যারা সময়মতো আপনাকে হোটেলে ফিরিয়ে আনে, তাহলেই যথেষ্ট,” বলেন তিনি।
বর্তমান ইংল্যান্ড দল নিয়ে ব্রড আরও যোগ করেন, “আমি অনেক কিছু পড়েছি ড্রিংকিং কালচার নিয়ে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, এই দলে ক্রলি, পোপ, স্টোকস, রুট- ওরা কেউই পার্টি অ্যানিমাল নয়। ওরা বাইরে গিয়ে মাতলামি করে বেড়ায় না। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই দলে কোনো মদ্যপানের সংস্কৃতি নেই।”
বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ড দল গত ১৮ অক্টোবর নিউজিল্যান্ডে সাদা বলের সফর শুরু করে। এরপর বহু ক্রিকেটার সরাসরি ২৩ নভেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অ্যাশেজ খেলেন। সামনে ২২ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কা সফর এবং এরপর ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরেই ক্রিকেটাররা টানা সফরে আছেন।
এই বাস্তবতা তুলে ধরে ব্রড বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে একটু ছাড় দরকার। ছয় মাস হোটেলে থাকলে কিছু না করলে মাথা খারাপ হয়ে যাবে। অস্ট্রেলিয়া অ্যাশেজ জিতেছে- ট্রাভিস হেডকে দেখুন, সে জীবন উপভোগ করেছে। ম্যাচ জিতলে একটু আরাম করার অধিকার তো থাকেই।”
পডকাস্টে অংশ নেওয়া জস বাটলারও বিষয়টিকে ‘অপটিক্স’-এর দিক থেকে দেখার কথা বলেন। “অনেক কিছুই বাইরে থেকে কেমন দেখাচ্ছে, সেটার ওপর নির্ভর করে। আপনাকে নিজের যত্ন নিতে হবে, সতীর্থরাও আপনাকে আগলে রাখবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার এটাই মূল্য- আপনি যা খুশি করতে পারেন না। পেশাদার জীবনযাপন করতে হবে, এবং সেটাকে দেখতেও পেশাদার লাগতে হবে,” বলেন বাটলার।

