ফরাসি কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ জার্মেইনের (পিএসজি) জন্য বড় ধাক্কাই হয়ে এল সোমবার। রাউন্ড অব ৩২–এ নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস এফসির কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে লুইস এনরিকের দল। ম্যাচ শেষে এই হারকে ‘মুখে চপেটাঘাত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পিএসজি মিডফিল্ডার সেনি মায়ুলু।
চার দিন আগেই টানা চতুর্থবারের মতো ফরাসি সুপার কাপ জিতেছিল পিএসজি। কিন্তু পার্ক দে প্রিন্সেসে সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ আর দেখা গেল না। ৪৬ বছর পর চলতি মৌসুমে লিগ ওয়ানে ফেরা প্যারিস এফসি রীতিমতো চমক দেখিয়ে বিদায় করে দিল শক্তিশালী প্রতিবেশীকে।
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতিকে আরও যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে গোলটির উৎস। পিএসজিরই সাবেক খেলোয়াড় জোনাথান ইকোনে ৭৪তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল পেলেও উদযাপন করেননি তিনি। ম্যাচ শেষে মায়ুলু বলেন, “আমরা ম্যাচটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য এক ধরনের চপেটাঘাত। তবে আমরা ঘুরে দাঁড়াব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এটা একটা হার, কিন্তু এখন সামনে তাকাতে হবে। লিগ ওয়ানে আবার শীর্ষে ফিরতে চাই। আগের মতোই অনুশীলনে সর্বোচ্চটা দেব এবং বাকি সব প্রতিযোগিতা জয়ের জন্য চেষ্টা করব।” পিএসজির যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা ইকোনে এ মৌসুমেই প্যারিস এফসিতে যোগ দেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “না, আমি উদযাপন করতে পারি না। এই ক্লাবই আমাকে সবকিছু দিয়েছে। এখানে গোল করতে পেরে আমি খুশি, তবে সেই ক্লাবের প্রতি সম্মান রেখেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ম্যাচে ভালোভাবে নেমেছিলাম, রক্ষণে শক্ত ছিলাম এবং যে গোলটা দরকার ছিল সেটাই করেছি। আশা করছি, এই জয় আমাদের লিগের লড়াইয়েও আত্মবিশ্বাস দেবে।” বর্তমানে লিগ ওয়ানে প্যারিস এফসি রয়েছে ১৫ নম্বরে, অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট দূরে। অন্যদিকে পিএসজি দ্বিতীয় স্থানে, চমক জাগানো শীর্ষ দল লেন্সের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে।
পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে অবশ্য ফলাফলকে কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, “এটা এমন এক প্রতিযোগিতা, যেটা আমরা খুব ভালোবাসি। হার মেনে নিতে হবে, এটাই বাস্তবতা। যদি হারতেই হয়, তাহলে এভাবেই হারতে চাই, খেলাটা নিয়ন্ত্রণে রেখে।”

