এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে বড় জয়ে চেলসির নতুন অধ্যায় শুরু করলেন লিয়াম রোজেনিয়র। শনিবার চার্লটনকে ৫–১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই দারুণ শুরু উপহার দিয়েছেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া এই কোচ।
স্ট্রাসবুর্গ থেকে এসে প্রথমবারের মতো চেলসির ডাগআউটে দাঁড়িয়ে রোজেনিয়র দেখেন জরেল হাতো, তোসিন আদারাবিওয়ো, মার্ক গুইউ, পেদ্রো নেটো ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলের উৎসব। একপেশে এই জয়ে নতুন কোচের শুরুটা হলো প্রায় নিখুঁত।
বিজ্ঞাপন
৪১ বছর বয়সী রোজেনিয়র গত সপ্তাহে ক্লাব ছাড়েন এনজো মারেস্কার জায়গায় দায়িত্ব নেন। মারেস্কার মেয়াদ ছিল বেশ অস্থির, যেখানে ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে মতবিরোধের গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল।
একই মালিকানার আওতায় থাকা স্ট্রাসবুর্গ থেকে আসায় রোজেনিয়র আদৌ কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন এ নিয়ে সমালোচনাও ছিল। ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব হাল সিটি থেকে বরখাস্ত হওয়া এই কোচের সামনে তাই নিজেকে প্রমাণের চাপ ছিল। তবে চ্যাম্পিয়নশিপের ১৯তম স্থানে থাকা চার্লটনকে সহজেই হারিয়ে অন্তত অভিষেকে কোনো অপ্রত্যাশিত বিব্রতকর ফল এড়াতে পেরেছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে রোজেনিয়র বলেন, “ভালো শুরু, খুবই পেশাদার পারফরম্যান্স। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রথম গোলটা এসেছে, জরেলের গোলটা ছিল দুর্দান্ত। আমার খেলোয়াড়দের মান অসাধারণ। এটা একটা শক্তিশালী শুরু, যেখান থেকে আমরা এগোতে পারি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গোলই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়, আর সেটা আসে খেলোয়াড়দের মান থেকে। মার্ক গুইউ অসাধারণ ছিল, ও গোলটা প্রাপ্য ছিল। অনেক ইতিবাচক দিক আছে, তবে এখনই বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই।”
বিজ্ঞাপন
টড বোয়েলির কনসোর্টিয়াম ক্লাবটি কেনার পর থমাস টুখেল, গ্রাহাম পটার, মরিসিও পচেত্তিনো ও এনজো মারেস্কাসহ একের পর এক কোচ দীর্ঘমেয়াদে টিকতে পারেননি। এই বাস্তবতায় ২০১৬ সালে আন্তোনিও কন্তের পর রোজেনিয়রই প্রথম চেলসি কোচ, যিনি অভিষেক ম্যাচে জয় পেলেন।
তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। বুধবার লিগ কাপ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের মুখোমুখি হবে চেলসি। রোজেনিয়রের ভাষায়, “ছেলেরা আমাদের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে, এজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। এভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত। আর হ্যাঁ, বুধবার কিন্তু আমাদের সামনে ‘ছোটখাটো’ একটা ম্যাচই আছে!”

