বিপিএলের এবারের আসরের খেলা চলছে। তবে এ টুর্নামেন্ট নিয়ে তেমন কোনও আলোচনা নেই, অনেকটা যেন আড়ালেই চলছিল খেলা। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়া, তামিম ইকবালকে বিসিবি পরিচালকের মন্তব্য করা- এসব নিয়েই সরগরম ক্রিকেটাঙ্গণ। এসবের মাঝেই গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদ। এরপর বিপিএল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিপিএলে ফিক্সিং ঠেকাতে কাজ করছে বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট (আকু)। তবে এই ইউনিট যেভাবে কাজ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকার সিইও। ঢাকা ক্যাপিটালসের রহমানউল্লাহ গুরবাজ যখন ঘুমোতে গেছেন, তখন তাঁর রুমে দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা ঢুকে পড়েছেন বলে গতকাল জানিয়েছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ। টিম ম্যানেজার বা খেলোয়াড় কাউকে না জানিয়ে গুরবাজের রুমে ঢুকে তাঁর ফোন ঘেঁটে দেখা হয়েছে। এছাড়া প্যাড পরা অবস্থায় সাইফ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এমন ব্যবহার কাম্য নয় বলে জানিয়েছেন বিসিবির সাবেক নির্বাচক ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ হান্নান সরকার। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটা একটু খারাপ লেগেছে। বললাম যে নিয়মের মধ্যে থেকে...নিশ্চিতভাবেই কারও রুমে তল্লাশি করা, মোবাইল ঘেঁটে দেখা- যেকোনো ভাবেই হোক তাদের অধিকার রয়েছে। তবে সেটা একটা নিয়ম রয়েছে। আমি যতটুকু জানি ম্যানেজারকে জানিয়েই সেটা করতে হয়। যদি সেটা করে থাকে, সেটা নিয়ে দ্বিতীয় কোনো প্রশ্ন আসা উচিত না।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক নির্বাচক বলেন, ‘খেলার মধ্যে যদি কেউ সেরা একাদশে খেলছে, প্যাডআপ পরে প্রস্তুত থাকে, প্রধান কোচ হিসেবে তার ব্যাপারে আমার কাছে যদি কোনো প্রশ্ন আসে, দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা আসতে চায়, সেটা ম্যানেজারের মাধ্যমে আমার কাছে আসতে হবে। আমার দলে এমনটা বলে নিশ্চিতভাবেই আমি সেটা মেনে নেব না। সেটা নিশ্চিত। কঠোরভাবে যে নিয়ম অনুসরণ করা উচিত, সেটা করব। ম্যাচ শেষে অবশ্যই তারা সেটা দেখতে পারেন। তবে দিনশেষে আমি একটা কথাই বলব নিয়মের মধ্যে, তাদের কাছে লিখিত কী নিয়ম রয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই বিস্তারিত অত পড়া হয় না। তবে যদি সেটা নিয়মের মধ্যে থাকে আর আমাদের সেটা দেখিয়ে দেয়, তাহলে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতিবিরোধী বিষয়ে ঢাকা গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমি দেখেছি। যে বিষয়গুলো শুনেছি বা দেখেছি, সেই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে সেটা যদি আমাদের দুর্নীতিবিরোধী গাইডলাইন বা তাদের প্রক্রিয়ার মধ্য থেকে হয়, সেটাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তো বিষয়টা হচ্ছে সাধারণ প্রটোকল যেটা সেটা যদি বজায় রাখা হয় বা তাদের যদি প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে যেভাবে দেখা হয়, এমনকি যদি আমার দলের ব্যাপারেও সহায়তা করার চেষ্টা করব। তবে নিয়মের মধ্য থেকে কাজ করলে কোনো দ্বিধা বা সংশয় থাকবে না।’
এবারের বিপিএলে ফিক্সিং রোধে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে জানিয়ে হান্নান আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে এবার অনেক কড়াকড়ি রয়েছে। এটা সত্য। বলতেই হবে এটা। কারণ, এর আগেও ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি। সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছি। স্বাভাবিকভাবেই যখন দুর্নীতিবিরোধী ইস্যুটা সামনে এসেছে, যেভাবে ব্যাপারটা দেখা হতো, তার চেয়ে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। কড়াকড়ি করার ব্যাপারে আমরা সবাই কিন্তু ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। আমার মতে সেটা প্রশংসা করা উচিত। তবে যেটাই ঘটবে বা ঘটানো হবে, সেটা একটা প্রক্রিয়া ও নিয়মের মধ্য থেকে করা জরুরি।’

