রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

শ্রীলঙ্কায় যায়নি অস্ট্রেলিয়া খেলতে, ভারত যায়নি পাকিস্তানে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪১ এএম

শেয়ার করুন:

শ্রীলঙ্কায় যায়নি অস্ট্রেলিয়া খেলতে, ভারত যায়নি পাকিস্তানে

২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু এই মেগা ইভেন্টে একটা বড় ঝড় উঠেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে, নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষার কারণে তারা ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ নির্ধারিত ছিল ভারতের মাঠে কলকাতা ও মুম্বাইতে। কিন্তু বিসিবি সাফ বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দল ভারতে যাবে না।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা। বিসিবি আইসিসির কাছে দাবি করেছে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে। তারা অনুরোধ করেছে, বাংলাদেশের সব ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হোক শ্রীলঙ্কায়। এমনকি বিসিবি একাধিকবার আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে এবং বিস্তারিত নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্পষ্ট বলেছেন, জাতীয় মর্যাদা ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার খাতিরে এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবে বাংলাদেশ।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশ একা নয়। আইসিসি ইভেন্টে নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে দলের ভেন্যুতে না যাওয়ার দৃষ্টান্ত আছে অনেক। এখানে কয়েকটা উল্লেখযোগ্য উদাহরণ- ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ভারত পাকিস্তানে না গিয়ে তাদের ম্যাচ খেলেছে দুবাইয়ে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই হাইব্রিড মডেল চালু হয়। ১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় যায়নি। গৃহযুদ্ধ ও বোমা বিস্ফোরণের ভয়ে তারা ম্যাচ ফরফেইট করে।

২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে যায়নি রাজনৈতিক কারণে (মুগাবে সরকারের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ অবস্থান)। নিউজিল্যান্ড কেনিয়ায় যায়নি নিরাপত্তা ইস্যুতে। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিম্বাবুয়ে ইংল্যান্ডে না গিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে সরে যায়। তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ড খেলে।

এসব ঘটনায় দেখা গেছে, নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে দল না খেললে আইসিসি কখনো ভেন্যু পরিবর্তন করেছে, কখনো পয়েন্ট ফরফেইট করেছে। বাংলাদেশ এখন আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। কেউ কেউ বলছেন, হাইব্রিড মডেল চালু হতে পারে, যেমনটা ভারত-পাকিস্তানের ক্ষেত্রে হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটপ্রেমীরা উদ্বিগ্ন। টাইগাররা বিশ্বকাপে খেলবে কি না, সেটা এখন বড় প্রশ্ন। বিসিবি বলছে, ক্রিকেট খেলব, কিন্তু জাতীয় মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে আপস নয়। আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটাই এখন দেখার।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর