অস্ট্রেলিয়া সফরে ৪–১ ব্যবধানে অ্যাশেজ হেরে হতাশা নিয়েই দেশে ফিরছে ইংল্যান্ড। তবে এই বড় পরাজয়ের পরও বেন স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে না বলেই ইঙ্গিত মিলছে। সফরের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন কোচ ও অধিনায়ক—দুজনই।
নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখার সময় ২০১০–১১ সালের পর প্রথমবার অ্যাশেজ জয়ের বাস্তব আশা ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই সিরিজে ৩–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তারা। এরপর কেবল সম্মান বাঁচানোর লড়াই ছিল।
এত বড় ধাক্কার পরও ক্রিকেট পরিচালক রব কি, কোচ ম্যাককালাম ও অধিনায়ক স্টোকস—তিনজনই দায়িত্বে থাকছেন বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাককালামকে সরানো আরও জটিল, কারণ তিনি ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলগুলোরও কোচ। সামনে ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রয়েছে। ইংল্যান্ড আবার টেস্ট খেলবে জুনে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে।
সিডনিতে শেষ টেস্টে পাঁচ উইকেটে হারের পর স্টোকস বলেন, তিনি অধিনায়কত্ব চালিয়ে যেতে চান, যদিও “অনেক ভুল ঠিক করতে হবে” বলেও স্বীকার করেন। ম্যাককালামও বলেন, উন্নতির জায়গা আছে, তবে তিনি কাউকে নিজের কাজ বলে দিতে দেবেন না।
ম্যাককালামের আক্রমণাত্মক ‘বাজবল’ দর্শনে কতটা পরিবর্তন আসে, সেটাই তার ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই সফরে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি, বিশেষায়িত কোচিংয়ের অভাব এবং মাঠের বাইরের আচরণ নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
সিরিজ শেষ হতেই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড ‘সম্পূর্ণ পর্যালোচনা’ শুরুর ঘোষণা দেন। বাস্তবতা হলো—চোটে জর্জরিত অস্ট্রেলিয়া দলও ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ক্রিকেটকে সহজেই সামলে নেয়। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স খেলতে পেরেছেন মাত্র এক টেস্ট, জশ হ্যাজেলউড পুরো সিরিজেই ছিলেন বাইরে।
ব্যাটিং ধস, ফিল্ডিংয়ে ভুল আর নিষ্প্রভ বোলিং—এই সিরিজ শেষে খুব কম ইংল্যান্ড ক্রিকেটারই স্বস্তি নিয়ে ফিরতে পারছেন। সাবেক ইংল্যান্ড ওপেনার জিওফ্রি বয়কট কড়া সমালোচনা করে বলেন, “ম্যাককালাম, রব কি আর স্টোকস তিন বছর ধরে একটি ভুল ধারণা বিক্রি করেছেন।”
বোলিং বিভাগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পার্টটাইম অফস্পিনার উইল জ্যাকস যতগুলো টেস্ট খেলেছেন, চোটপ্রবণ মার্ক উড ও জফরা আর্চার মিলে খেলেছেন তার চেয়ে বেশি নয়। তরুণ স্পিনার শোয়েব বশিরকে দলে রেখেও একটি টেস্ট খেলানো হয়নি।
তবে সিডনিতে জ্যাকব বেথেলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ছিল ব্যতিক্রম। ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটার ১৫৪ রানের ইনিংসে দেখিয়েছেন পরিণত মানসিকতা। সাবেক অস্ট্রেলিয়া কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেন, “এটাই আসল বিনোদন। অকারণে আকাশে মারাই ক্রিকেট নয়।”
২০২২ সালে স্টোকস–ম্যাককালাম জুটি দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুটা দারুণ ছিল—প্রথম ১১ টেস্টের ১০টিতেই জয়। কিন্তু বৃহস্পতিবারের হার ছিল গত ২৮ টেস্টে ইংল্যান্ডের ১৪তম পরাজয়। ২০১৮ সালের পর অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের বড় কোনো সিরিজ তারা জিততে পারেনি।
স্টোকস বলেন, “আমরা এখন বেশি হারছি। যেসব বড় সিরিজ জিততে চাই, তা পারছি না। এই সিরিজে আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছি—এটা স্বীকার করতেই হবে।”

