ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে সবসময় তা হয় না। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর ফিফা রাশিয়া আর তার মিত্র বেলারুশকে সব ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করে। এখন, চার বছর পর, সেই সিদ্ধান্ত আবার আলোচনায় উঠেছে। কারণ, এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আর তার স্ত্রীকে 'তুলে নিয়েছে'। প্রশ্ন উঠেছে, রাশিয়া যদি নিষিদ্ধ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন নয়?
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে। এরপরই ফিফা আর উয়েফা (ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা) রাশিয়াকে সব ফুটবল থেকে বাদ দেয়। তাতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাশিয়া ২০২২ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। এমনকি ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও অংশ নিতে পারেনি। এছাড়া ক্লাব রাশিয়ান ক্লাবগুলো ইউরোপ লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে নির্বাসিত। বেলারুশও একই শাস্তি পায়।
বিজ্ঞাপন
ফিফার যুক্তি ছিল, যুদ্ধের কারণে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। পোল্যান্ড, সুইডেনের মতো দেশগুলো ফিফার কাছে আবেদন করে বলে, রাশিয়ার সঙ্গে খেলতে চায় না। ফিফা তাতে সায় দেয়। এতে ফুটবলের 'নিরপেক্ষতা' নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।
২০২৬-এর ঘটনা, এই বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায়। প্রেসিডেন্ট মাদুরো আর তার স্ত্রীকে 'তুলে নেওয়া'। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোজাসুজি বলেছেন, এর পেছনে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে তোলপাড়। সামাজিক মাধ্যমে বলছে, 'রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে নিষিদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট তুলে নিল, তাদের কেন শাস্তি নয়?' কেউ কেউ দাবি করছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দাও। এই বিশ্বকাপ কানাডা, মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা। কিন্তু ফিফা চুপ।
ফিফার নিয়ম বলে, কোনো দেশ যদি যুদ্ধে জড়ায় বা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে তাদের ফুটবল ফেডারেশন নিষিদ্ধ করা যায়। রাশিয়ার ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য ছিল, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে, আর অনেক দেশ আবেদন করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বেলায়? তারা কোনো যুদ্ধে জড়ায়নি (আনুষ্ঠানিকভাবে)। তাদের খেলোয়াড় বা ক্লাব নিয়ে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। আর কোনো দেশ ফিফার কাছে আবেদনও করেনি।
এর পেছনে আরও কারণ আছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আর ট্রাম্পের মধ্যে। এতে শাস্তির সম্ভাবনা কম। ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রথমবার ৪৮ দলের। এটা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোতে হবে। সূচি চূড়ান্ত, মাত্র ৬ মাস বাকি। যুক্তরাষ্ট্রকে নিষিদ্ধ করলে ফিফা নিজেই বিপদে পড়বে, আয়োজন বাতিল বা স্থান পরিবর্তন করতে হবে, যা বিশাল খরচ আর ঝামেলা। ফলে, ফিফা সম্ভবত চুপ থাকবে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকে যায় রাজনীতির কারণে যদি যুক্তরাষ্ট্র বেঁচে যায়, তাহলে রাশিয়াকে কেন শাস্তি দেওয়া হলো? এটা ফুটবলের 'নিরপেক্ষতা' নিয়ে বড় সন্দেহ জাগায়।
বিজ্ঞাপন
আপাতত, ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। কিন্তু এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতি কতটা জড়িয়ে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ফিফা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নীরব।

