অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবারের অ্যাশেজ সিরিজটা যেন তাদের একচেটিয়া আধিপত্যের প্রদর্শনী হয়ে রইল। গত ১৫ বছরের মধ্যে এটা সবচেয়ে দুর্বল অস্ট্রেলিয়ান দল। কিন্তু স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বে অজিরা সব ভবিষ্যদ্বাণী উল্টে দিয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল। শেষ টেস্টে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে জয়ের সাথে বিদায় নিলেন উসমান খাজা, ঘরের মাঠে মাথা উঁচু করে।
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছিল ৩৮৪ রান। জবাবে ট্রাভিস হেডের ১৬৩ ও স্টিভ স্মিথের ১৩৮ রানের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া তুলল বিশাল ৫৬৭ রান। ১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড লড়াই করল জ্যাকব বেথেলের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি (১৫৪ রান) দিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অলআউট হল ৩৪২ রানে, অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য মাত্র ১৬০ রান।
বিজ্ঞাপন
চতুর্থ ইনিংসে ঝোড়ো শুরু করলেন ওপেনাররা। ট্রাভিস হেড ২৯, জ্যাক ওয়েদারাল্ড ৩৫ ও মার্নাস লাবুশেন ৩৭ রান করে ফিরলেন। উসমান খাজা তার ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে করলেন মাত্র ৬ রান। একসময় ১২১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও অ্যালেক্স কেয়ারি (১৬*) ও ক্যামেরন গ্রিনের (২২*) অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ৩১.২ ওভারে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
এবারের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন ট্রাভিস হেড ও মিচেল স্টার্ক। ট্রাভিস হেড পাঁচ ম্যাচে তিন সেঞ্চুরি নিয়ে ৬২৯ রান। চলতি শতাব্দীতে এক অ্যাশেজ সিরিজে ৬০০+ রান করা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের মধ্যে মাত্র দ্বিতীয়জন (আগে স্টিভ স্মিথ)। মিচেল স্টার্ক ৩১ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা। স্ট্রাইক রেট মাত্র ২৯.৬ অ্যাশেজ ইতিহাসে ৩০+ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। চলতি শতাব্দীতে এই কীর্তি গড়া চতুর্থ বোলার।
উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেয়ারিও দুর্দান্ত, সিরিজে ২৮ ডিসমিসাল। অ্যাশেজে এর চেয়ে বেশি শুধু ব্র্যাড হ্যাডিনের (২৯, ২০১৩)। ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেললেন উসমান খাজা। বড় রান না পেলেও ৮৮ টেস্টে ১৬ সেঞ্চুরি ও ২৮ ফিফটিতে ৬,২২৯ রান নিয়ে বিদায় নিলেন এই অভিজ্ঞ ওপেনার।

