ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেটের মাঠে। বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬ থেকে বাদ দেয়ার ঘটনা ঘিরে উভয় দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে, আর বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছে।
গত ডিসেম্বরের আইপিএল মিনি নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মুস্তাফিজকে ৯.২০ কোটি রুপিতে কিনে নেয়। কিন্তু নিলামের কয়েক সপ্তাহ পরই ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে। তারা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা চলছে, এমন সময় বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে দলে নেয়া ঠিক নয়। এরপর বিসিসিআই কেকেআরকে নির্দেশ দেয় মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে। ৩ জানুয়ারি কেকেআর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দল থেকে সরিয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনায় বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ না থাকায় এবং এতে জনগণের মনে আঘাত লাগায় আইপিএলের সব সম্প্রচার বন্ধ করা হচ্ছে। ফলে এ বছর বাংলাদেশে আইপিএল দেখা যাবে না।
এরপর আরও বড় সিদ্ধান্ত আসে ক্রিকেট বোর্ড থেকে। বিসিবি জানায়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাংলাদেশ দল ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতে যাবে না। তারা আইসিসিকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে। বাংলাদেশের গ্রুপের চারটি ম্যাচই ভারতে (তিনটি কলকাতায়, একটি মুম্বাইয়ে) হওয়ার কথা ছিল।
দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে। তানজিম হাসান সাকিবের মতো তরুণ পেসাররা বলছেন, আইপিএলে খেলার আগে এখন থেকে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন। তানজিম বলেন, 'আইপিএল থেকে ওনাকে কেন সরানো হলো বা কেন এমন হলো এটা আসলে আমরা জানি না। রাজনৈতিক ইস্যু থাকতে পারে, তবে ক্রিকেটে রাজনীতি না আসাই ভালো। আমরা প্লেয়ার হিসেবে আইপিএল খেলার ইচ্ছা রাখি এবং সেই হিসেবেই নাম দিই। পরের বছর কি হবে সেটা এজেন্ট এবং দেশের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।'

