বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মুস্তাফিজ ইস্যুতে অর্থ উপদেষ্টা

‘সরকার নিউটনের সূত্রের মতো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

‘সরকার নিউটনের সূত্রের মতো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে’

ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা ক্রিকেটের মাঠ ছাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। 

সবকিছুর সূত্রপাত গত ৩ জানুয়ারি। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯.২০ কোটি রুপিতে নিলামে কেনা মুস্তাফিজকে ছাড়তে বাধ্য হয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে। বিসিসিআইয়ের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া এটাকে ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলী’র সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করলেও সরাসরি কারণ উল্লেখ করেননি। ভারতীয় মিডিয়া ও রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মতে, এর পেছনে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা ভূমিকা রেখেছে।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশে এ ঘটনা তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রথমে ফেসবুকে পোস্ট করে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের দাবি তোলেন এবং ভারতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। পরদিন বিসিবি আইসিসির কাছে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই কলকাতা ও মুম্বাইয়ে নির্ধারিত ছিল।

সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে আইপিএলের সকল সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুস্তাফিজের বাদ পড়ার ‘যৌক্তিক কারণ না জানানোয়’ জনগণের মনে দুঃখ, ক্ষোভ ও আঘাত লেগেছে। এটি ‘জনস্বার্থে’ নেওয়া সিদ্ধান্ত।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ এবং বিশ্বকাপ ম্যাচ সরানোর সিদ্ধান্ত দুটি ‘পুরোপুরি যথাযথ ও শক্তিশালী’। তিনি এটাকে নিউটনের তৃতীয় সূত্রের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এই ধরনের অ্যাকশন কেউ যদি শুরু করে তার একটা রিঅ্যাকশন হবে। নিউটনের ল, অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন। এইটাই বললাম।’ বলে রাখা ভালো, নিউটনের তৃতীয় সূত্র হলো, ‘প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে।’

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও একমত পোষণ করে বলেন, এটি ‘যথাযথ প্রতিক্রিয়া’ এবং আশা প্রকাশ করেন যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে। দুই উপদেষ্টাই জানান, খেলাধুলা ও সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ।


বিজ্ঞাপন


অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ অর্থনীতি কিংবা সরকারি ক্রয়কে প্রভাবিত করবে না বলে মনে করি। এ সমস্যার শুরু বাংলাদেশ করেনি। এমন না, দয়া-দাক্ষিণ্য করে মুস্তাফিজকে নেয়া হয়েছে। সে একজন ভালো প্লেয়ার, বিখ্যাত প্লেয়ার। যেটা হয়েছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক, এটা দু'দেশের কারো জন্যই ভালো হয়নি। বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া যথাযথ। হিটলারের সময়ও অলিম্পিক হয়েছে। রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক এটি আমরা চাই না।’

ড. সালেহউদ্দিন আরও বলেন, ‘আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের বিষয়টি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হিসাবে দেখতে হবে। ডেকে নিয়ে আমাদের খেলোয়াড় প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সেটি বলিষ্ঠ এবং যথাযথ মনে করি। ভারতকেও এ সিদ্ধান্ত ভাবাচ্ছে। শশী থারুর বলেছেন, ভারতের এটি করা উচিৎ হয়নি। আশা করি, ভারতের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং খেলা, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমরা চালিয়ে যেতে পারবো।’

ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং বলেছেন, ভারত সব দলকে আতিথেয়তা দিতে প্রস্তুত এবং যাওয়া-না যাওয়া বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত। আইসিসি এখনও বিসিবির অনুরোধের জবাব দেয়নি।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর