বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নিরাপত্তা উদ্বেগে বিশ্বকাপ ভেন্যু বদলেছিলো যেসব দেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

নিরাপত্তা উদ্বেগে বিশ্বকাপ ভেন্যু বদলেছিলো যেসব দেশ

ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রায়ই বড় ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সন্ত্রাসী হামলা বা অন্যান্য শঙ্কায় ভেন্যু বদল বা ম্যাচ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে বারবার। সাম্প্রতিকতম উদাহরণ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবি। বিসিবি নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছে। এর আগেও একাধিক দেশ এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। চলুন, ইতিহাস টেনে দেখি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা

ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড (২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ)

২০০৩ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে রবার্ট মুগাবের শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা শঙ্কা (ডেথ থ্রেট সহ) দেখিয়ে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে। আইসিসি ভেন্যু দক্ষিণ আফ্রিকায় সরানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে, ফলে ম্যাচ ফরফেইট হয় এবং জিম্বাবুয়ে ৪ পয়েন্ট পায়। কেনিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা (মোম্বাসা বোমা হামলার পর) দেখিয়ে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে। আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ নাকচ করে, ম্যাচ ফরফেইট হয় এবং কেনিয়া ৪ পয়েন্ট পায়।

অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপ)

শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের কারণে কলম্বোতে সন্ত্রাসী হামলার পর অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিরাপত্তা শঙ্কায় শ্রীলঙ্কায় খেলতে অস্বীকার করে। তাদের গ্রুপ ম্যাচ ফরফেইট হয়, শ্রীলঙ্কা পয়েন্ট পায়। এটি বিশ্বকাপে নিরাপত্তা উদ্বেগে ম্যাচ বয়কটের উদাহরণ।

পাকিস্তান (২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ)

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়ায়। ফলে ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক পাকিস্তানের সব ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৪টি ম্যাচ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়। এটি ছিল নিরাপত্তা কারণে পুরো একটি দেশের আয়োজক ভূমিকা বাতিলের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

ভারত (২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)

ভারত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কারণে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকার করে। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে (পাকিস্তান আয়োজিত) ভারতের সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে (দুবাই) খেলানো হয়েছে। একই নিয়মে ২০২৪-২৭ চক্রে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এছাড়া ২০২৩ এশিয়া কাপে ভারতের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ (২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা। ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার প্রেক্ষাপটে বিসিবি নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা আইসিসির কাছে সব ম্যাচ (কলকাতা ও মুম্বাইয়ে নির্ধারিত) শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছে। পাকিস্তানের ম্যাচগুলোও ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কায়। আইসিসি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, কিন্তু এটি অনুমোদিত হলে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।

এছাড়া ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কোভিড উদ্বেগে (যা নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত) ভারত থেকে সরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে নেওয়া হয়। এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারতে পাকিস্তানের ম্যাচ নিয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা হয়, কিছু ম্যাচের তারিখ বদল হয়।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর