বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘নো-বল’ করে বাংলাদেশের কাছে খেসারত দিচ্ছে ভারত!

সালমান ইসলাম
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

‘নো-বল’ করে বাংলাদেশের কাছে খেসারত দিচ্ছে ভারত!

ক্রিকেটের মাঠে একটা নো-বল যেমন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়, তেমনি একটা ‘নো-বল’ সিদ্ধান্ত এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে কাঁপিয়ে তুলেছে। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যখন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিল বাংলাদেশের স্টার পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬ থেকে ছেড়ে দিতে, তখন কেউ ভাবেনি এটা এত বড় বিস্ফোরণ ঘটাবে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের রিঅ্যাকশনে, অ্যাকশনে নিল ঝড়ের গতিতে। বিসিবি ঘোষণা করেছে, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোনো ম্যাচই ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ।

এদিকে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় বিসিসিআই-এর পক্ষে 'কোনো যৌক্তিক কারণ' জানা যায়নি। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আইপিএল ২০২৬-এর সব ম্যাচের সম্প্রচার স্থগিত করেছে। আইপিএল থেকে ফিজকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশ নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যেতে চাইছে না। 


বিজ্ঞাপন


আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো, বাংলাদেশের ৪ ম্যাচ খেলার কথা ভারতের মাটিতে। বিকল্প ভেন্যুতে নিজেদের ম্যাচগুলো আয়োজনের দাবি বিসিবির। এ নিয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিকে বিসিবি চিঠিও দিয়েছে। ‘ক্রিকবাজ’ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিসিবির অনুরোধ বিবেচনায় নিতে পারে আইসিসি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়া হতে পারে শ্রীলঙ্কায়। আগামী এক-দুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে আইসিসির কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এটা শুধু একটা ক্রিকেটীয় বিতর্ক নয়, এটা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জ্বলন্ত রাজনৈতিক আগুনের প্রতিফলন। বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র এক মাস বাকি, আর এখন আইসিসির সামনে বিশাল সংকট। ভারত-শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের চারটি গ্রুপ ম্যাচই ছিল ভারতের তিনটা ভেন্যু ইডেন গার্ডেন্সে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, ইতালির বিপক্ষ) এবং একটা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (নেপালের বিপক্ষ)। এখন বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বলেছে, সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিন, নয়তো আমরা যাব না। 

গল্পটা শুরু আইপিএল অকশন থেকে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ আবু ধাবিতে মুস্তাফিজকে ৯.২০ কোটি রুপিতে কিনে নেয় কেকেআর। শাহরুখ খানের দলের জন্য এটা ছিল বড় সাইনিং। কিন্তু হঠাৎ ২০২৬-এর জানুয়ারিতে বিসিসিআই নির্দেশ দেয় মুস্তাফিজকে ছেড়ে দাও। কারণ, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা। বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া নিশ্চিত করেন, এটা 'সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর' কারণে।

বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নাজরুল ফেসবুকে আগুন ঝরান, 'যেখানে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারে না, সেখানে পুরো দল কীভাবে নিরাপদ বোধ করবে? আমরা কোনো অপমান সহ্য করব না। গোলামির দিন শেষ!' বিসিবির জরুরি বৈঠকের পর প্রেস রিলিজ, 'খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও মর্যাদা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে যাওয়া সম্ভব নয়।'


বিজ্ঞাপন


‘নো-বল’ সিদ্ধান্তের ফল এখন ভারতকেই ভুগতে হচ্ছে- 

আর্থিক ক্ষতি- ইডেন গার্ডেন্স ও ওয়াংখেড়ের ম্যাচগুলোতে লাখ লাখ দর্শকের টিকিট বিক্রি, স্পনসরশিপ, লোকাল অ্যাক্টিভেশন  সবকিছু ঝুঁকিতে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের ম্যাচটা হাই-প্রোফাইল। যদি বাংলাদেশ ম্যাচগুলো ভারতে না হয়ে শ্রীলঙ্কায় হয় এবং ভারতীয় ভেন্যুতে কোনো বিকল্প ম্যাচ না দেওয়া হয়, তাহলে বিসিসিআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপি। এখানে ৬০–৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং গড় টিকিটমূল্য ৫০০–১,৫০০ রুপি ধরা হয়েছে।

রাজনৈতিক লজ্জা- কংগ্রেস নেতা শশী থারুর টুইট করেছেন, 'আমরা নিজেরাই এই লজ্জা ডেকে এনেছি।'

ক্রিকেটের ভাবমূর্তি- ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, 'বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটকে রাজনীতির ক্রীড়নক বানিয়ে দিচ্ছে।'

আইসিসি এখন কোণঠাসা। হাইব্রিড মডেল নয় এই টুর্নামেন্ট, তাই ম্যাচ সরানো কঠিন। পাকিস্তানের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানো হয়েছে আগেই, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য নতুন সংকট। যদি ম্যাচ সরে যায়, ভারতের আয়োজক হিসেবে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে।

ক্রিকেটের মাঠে নো-বলের খেসারত ফ্রি হিট, কিন্তু এখানে খেসারতটা অনেক বড়। দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা ক্রিকেটকে গ্রাস করছে। বাংলাদেশের এই প্রতিক্রিয়া ভারতকে বড় শিক্ষা দিচ্ছে রাজনীতি আর খেলাকে মেশালে ফল ভুগতে হয় সবাইকে। বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখন মাঠের বাইরে। আইসিসি কী করে? ভারত নমনীয় হয়? নাকি ক্রিকেট আরেকটা বিভাজনের শিকার হয়?

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর