মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

পাকিস্তানের পথেই কী যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্ক?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

পাকিস্তানের পথেই কী যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্ক?

ক্রিকেট মাঠে একসময় বাংলাদেশ আর ভারতের সম্পর্ক ছিল বেশ মধুর। দুই দেশের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতেন, আইপিএলে বাংলাদেশি তারকারা নিয়মিত খেলতেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে সবকিছু বদলে গেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া পড়েছে ক্রিকেটেও। অনেকে বলছেন, ভারত-পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশ-ভারতের ক্রিকেট সম্পর্কও এখন ঠান্ডা যুদ্ধের পথে হাঁটছে।

সবকিছুর শুরু মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে। আইপিএল ২০২৬-এর নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯.২ কোটি টাকায় কিনেছিল এই বাংলাদেশি পেসারকে। কিন্তু হঠাৎ বিসিসিআই নির্দেশ দেয় কেকেআরকে তাকে ছেড়ে দিতে। কারণ হিসেবে বলা হয় “সাম্প্রতিক ঘটনাবলী”। ভারতে অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত।


বিজ্ঞাপন


এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্ষুব্ধ হয়। তারা বলে, যদি একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় ভারতে নিরাপদে খেলতে না পারে, তাহলে পুরো দল কীভাবে নিরাপদে যাবে? ফলস্বরূপ, বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়- ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। বাংলাদেশের গ্রুপের চারটি ম্যাচই ভারতে (কলকাতা ও মুম্বাই) হওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তো সরাসরি বলেছেন, “গোলামির দিন শেষ।”

২০২৫ সালে ভারতের বাংলাদেশ সফর (৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি) রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্থগিত করে ২০২৬-এর সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়। বিসিবি তো সূচিও ঘোষণা করেছিল। কিন্তু মুস্তাফিজুর ইস্যুর পর ভারতীয় মিডিয়ায় খবর, বিসিসিআই এই সফরও স্থগিত রাখতে চায়। সরকারের অনুমতি ছাড়া ভারতীয় দল বাংলাদেশে যাবে না। ফলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এখন অনিশ্চিত।

ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট সম্পর্ক তো অনেকদিন ধরেই জমে বরফ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ, আইসিসি টুর্নামেন্টেও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা (হাইব্রিড মডেল)। পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা আইপিএলে খেলতে পারেন না। এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বকাপে ভারতে না খেলার দাবি, আইপিএল থেকে বাদ। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি একই রকম।


বিজ্ঞাপন


ক্রিকেট তো রাজনীতি থেকে আলাদা থাকার কথা। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক যতদিন ঠান্ডা থাকবে, ক্রিকেটও ততদিন প্রভাবিত হবে। আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্বকাপ নিয়ে, সেটাই এখন দেখার। আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ফিরতে সময় লাগবে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর