শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বিদায়বেলায় বর্ণবাদ ও বৈষম্য নিয়ে খাজার ক্ষোভ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

বিদায়বেলায় বর্ণবাদ ও বৈষম্য নিয়ে খাজার ক্ষোভ

অবসর ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনেই নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বৈষম্যের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ওপেনার উসমান খাজা। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে অ্যাশেজ চলাকালীন পাওয়া সমালোচনা এবং সেটির সঙ্গে বর্ণগত স্টেরিওটাইপের যোগসূত্রের কথা খোলাখুলি বলেন তিনি।

পার্থ টেস্টের আগে গলফ খেলাকে কেন্দ্র করে খাজাকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সে সময় পিঠের চোটে ভুগলেও তার প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। খাজা বলেন, এই সমালোচনা ছিল ব্যক্তিগত এবং ক্রিকেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিল।


বিজ্ঞাপন


“পিঠের ব্যথা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কিন্তু যেভাবে মিডিয়া আর সাবেক ক্রিকেটাররা আমাকে আক্রমণ করেছে, সেটা দুই দিন নয়—টানা পাঁচ দিন চলেছে। বিষয়টা আমার পারফরম্যান্স নিয়েও ছিল না,” বলেন খাজা।

তার মতে, ‘অলস’, ‘স্বার্থপর’, ‘দলের প্রতি অঙ্গীকার নেই’, এ ধরনের মন্তব্যের পেছনে দীর্ঘদিনের বর্ণগত বৈষম্য কাজ করেছে। “এই শব্দগুলো আমি ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। এগুলো সেই একই বর্ণগত ধারণা, যার সঙ্গে আমি বড় হয়েছি,” বলেন পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া ও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার খাজা।

তিনি আরও বলেন, একই ধরনের ঘটনায় অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলা হয়নি। “অনেকে ম্যাচের আগের দিন গলফ খেলেছে, এমনকি চোটও পেয়েছে। কিন্তু কাউকে কিছু বলা হয়নি। কেউ আগের রাতে মদ্যপান করলেও সেটা ‘অজি ল্যারিকিন’ বলে মেনে নেওয়া হয়,” বলেন তিনি।

খাজা জানান, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজেকে আলাদা মনে হয়েছে তার। “আমি রঙিন চামড়ার একজন ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়ান দল আমাদের গর্ব। কিন্তু আচরণে আমি সবসময়ই নিজেকে আলাদা মনে করেছি।”


বিজ্ঞাপন


২৫ বছর বয়সে দলে মানিয়ে নিতে নিজের স্বভাব পর্যন্ত বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান তিনি। “আমি মদ্যপান করতাম না, তবু ক্লাবে যেতাম, সবার মতো হওয়ার চেষ্টা করতাম। তবু দলে জায়গা পেতাম না। তখন বুঝেছি, ৫০-৫০ সিদ্ধান্তগুলো আমার পক্ষে যায় না।”

এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পেছনে তার একটাই উদ্দেশ্য, ভবিষ্যতের প্রজন্ম। “আমি চাই পরের উসমান খাজার পথটা সহজ হোক। তাকে যেন একই চোখে দেখা হয়, বর্ণগত ছাঁকনিতে নয়।” স্বীকার করেন, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট অনেকটাই এগিয়েছে, তবে পুরোপুরি নয়। “আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, কিন্তু এখনও পথ বাকি। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট এখনো অনেক দিক থেকে খুব ‘সাদা’।”

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর