রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। বুধবার সন্ধ্যা। গ্যালারিতে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ তখন শ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে। মার্কো ইয়ানসেনের ওভারের শেষ বল। স্কোরবোর্ডে বিরাট কোহলির নামের পাশে ৯৯। পায়ের ওপর পড়া বলটা লং অনের দিকে শুধু একটু ঠেলে দিলেন। একটা রান। আর বাকিটা ইতিহাস।
গ্যালারি যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। চিৎকার, হুইসেল, 'কোহ-লি… কোহ-লি…' ধ্বনি আকাশ ছুঁয়ে ফিরে এলো। ৩৭ বছরের এক যুবক লাফিয়ে উঠলেন, দুই হাতে বাতাসে ঘুষি মারলেন, তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করলেন, যেখানে তাঁর প্রয়াত বাবা হয়তো হাসছেন!
বিজ্ঞাপন
এই একটা রানে পূর্ণ হলো বিরাট কোহলির ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৩তম সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতকের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮৪। শচীনের ৪৯-এর পর এখনও সবচেয়ে কাছের মানুষ তিনিই।
অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই অস্ট্রেলিয়ায় টানা দুই গোল্ডেন ডাক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোল, টিভি চ্যানেলে বিশ্লেষকদের “শেষ হয়ে গেল” গল্প। কোহলি শুধু হেসেছিলেন। তারপর পার্থে অপরাজিত ৭৪ রান দিয়ে বলেছিলেন, 'আমি এখনও আছি।' এবার রায়পুরে এসে যেন বললেন- শুধু আছি না, রাজত্ব করছি।
মাত্র ৯০ বলে সেঞ্চুরি। ৭টা চার, ২টা ছক্কা। বাকি ৬০ রান দৌড়ে। ৩৭ পেরিয়েও যেন ২৭-এর কোহলি ফিরে এসেছেন। ক্যারিয়ারে ১১তম বার ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি। সর্বশেষ এমনটা করেছিলেন ২০২২-২৩ মৌসুমে। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা। আজ সেটাও শেষ।
রুতুরাজ গাইকোয়াডের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৯৫ রানের জুটি। রুতুরাজ নিজেও প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ৮৩ বলে ১০৫। কিন্তু দিনটা শুধুই কোহলির। তবে রূপকথার মতো ইনিংসেরও শেষ আছে। লুঙ্গি এনগিডির বলে বড় শটের চেষ্টায় লং অনের ভেতরে ক্যাচ। ৯৩ বলে ১০২। হেলমেট খুলে মাথা নিচু করে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে হাততালি। হতাশা আছে, কিন্তু মুখে হাসি। কারণ তিনি জানেন, এটা শেষ নয়, আরেকটা গল্পের শুরু মাত্র।

