আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস জানিয়েছেন, বর্তমান দলটি ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য “প্রায় প্রস্তুত”। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ে যে উন্নতি দেখা গেছে, সেটিই তাকে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী করেছে।
এই বছরই সবচেয়ে বেশি টি–টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। ১১ মাসে ৩০টি ম্যাচ। আর এই সময়েই লিটনের দল জিতেছে পাঁচটি টি–টোয়েন্টি সিরিজ- শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হার দিয়ে বছর শুরু হলেও পরে ধারাবাহিক সাফল্য ফিরে পায় তারা।
আয়ারল্যান্ড সিরিজেও ০–১ পিছিয়ে থেকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ায়। শেষ দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ে ২–১ ব্যবধানে তুলে নেয় সিরিজ।
তৃতীয় টি–টোয়েন্টিতে ৮ উইকেট আর ৩৮ বল হাতে রেখে জয়ের পর লিটন বলেন, “আমি চেয়েছিলাম দল চাপের পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে আনুক। প্রথম ম্যাচে পারিনি, কিন্তু এর পর ফিরে এসে সিরিজ জিতেছি। আমরা তো ভালো ফিল্ডিং ইউনিট নই, কিন্তু এই সিরিজে কিছু দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছি। ফিল্ডিংয়ে অন্তত উন্নতি হয়েছে। এক বছরে এতগুলো টি–টোয়েন্টি খেলতে খেলতে খেলোয়াড়রা অনেক পরিণত হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ক্রেডিট সব খেলোয়াড় আর কোচিং স্টাফের। এশিয়া কাপ থেকেই দল মোটামুটি তৈরি হয়ে গেছে। তখন থেকেই সীমিত খেলোয়াড় ব্যবহার করেছি। এখন চাই এরা বিপিএল–এ ভালো খেলুক এবং সেই ছন্দ জাতীয় দলে নিয়ে আসুক। পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তা নেই, তবে ইনজুরি নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে। আগামী দুই মাস যেন সবাই নিরাপদ থাকে, এটাই কামনা করি।”
লিটন বলেন, বিশ্বকাপের সেরা কম্বিনেশন খুঁজে পেতে সারা বছর দল নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তো চার ওপেনারকেই টপ অর্ডারে ব্যবহার করা হয়। বোলিংয়েও ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয় স্পিন–পেস।
লিটন উদাহরণ দিলেন মুস্তাফিজকে শেষ ওভার না করানোর সিদ্ধান্তের কথা। “অনেক পরীক্ষা করেছি। কিছু পরিবর্তন ছিল ঝুঁকিপূর্ণও। আজ ফিজকে শেষ ওভার দেইনি। সাইফউদ্দিনকে দিতে চেয়েছিলাম কারণ সে দুই ম্যাচ খেলেনি।তার মানসিকতা দেখতে চেয়েছি। সব মিলিয়ে দলের সব অংশে আমরা অনেক কিছুই চেষ্টা করেছি। আগামী বিশ্বকাপের জন্য এই দল প্রায় তৈরি।”
তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মিডল অর্ডার নিয়ে। জাকের আলি, নুরুল হাসান আর শামীম হোসেন তিন ম্যাচে তিনজনই সুযোগ পেয়েছেন। তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিং পাননি শামীম। এ নিয়ে লিটন বললেন, “৬ নম্বর পজিশন নিয়ে খুব চিন্তা নেই। সবাই সব সিরিজে রান করবে না। এই সিরিজে হৃদয় দারুণ খেলেছে। আমি চাই এরা বিপিএলে রান করুক, সেখানকার ফর্ম বিশ্বকাপে বয়ে আনুক।”




