২০২২ সালের শুরুতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জিতে যেন এ বছর দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল টাইগাররা। নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জয়ের পর থেকেই যেন আবারও পুরনো রূপে ফিরে মুমিনুল হকের দল। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠেও খোয়াতে হয়েছে টেস্ট সিরিজ। দল যেমন ছন্দে নেই বা টেস্টে নিজেদের পুরনো রূপে ফিরেছে, দলের অধিনায়ক মুমিনুলও অনেকদিন ধরেই ফর্মে নেই। তাই শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর আর জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে বাংলাদেশ দলের সাদা পোশাকের অধিনায়ক হিসেবে মুমিনুল হকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও কথা উঠেছে।
জানা গেছে, মুমিনুলকে সরিয়ে নতুন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সাকিব আল হাসানকে দায়িত্ব দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
গত ১০ ইনিংসে কোন বড় স্কোর নেই মুমিনুলের। টেস্টে তার শেষ ১০ ইনিংসের স্কোর- ১৩*, ০, ৩৭, ০, ২, ৬, ৫, ২, ৯, ০। এ বছর এক মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ৮৮ রান করা ছাড়া দলের প্রয়োজনে কিছুই করতে পারছেন না তিনি। সেইসাথে আছে তার রিভিউ নেওয়ার বিবেচনাবোধ নিয়ে বিতর্ক।
তবে মুমিনুল অধিনায়কত্ব পাওয়ার আগে ও পরের চিত্রে পার্থক্য স্পষ্ট। অধিনায়কত্ব পাওয়ার আগে ৩৬ ম্যাচে মুমিনুলের রান ছিল ২৬১৩, গড় ৪১। অর্ধশতক ১৩টি এবং ৮টি শতক । আর অধিনায়কত্ব পাওয়ার পরে ১৭ ম্যাচে তার গড় মাত্র ৩২ রান। করতে পেরেছেন মাত্র ২ টি অর্ধশতক ও ২ টি শতক। এ চিত্র যেন বলে দেয় অধিনায়কত্বের চাপ বোধহয় ব্যাটার মুমিনুলকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে অনেকটা।
টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় উপরের দিকে থাকা পুরনো সেই ব্যাটার মুমিনুলকে ফিরে পেতে টেস্ট নেতৃত্ব নিয়ে তাকে নতুন করে ভাবতে বলেছে বিসিবি। আর নিজে থেকে মুমিনুল যদি টেস্ট দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তবে সাকিবকেই নাকি আবার এই দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে বিসিবি, এমন খবর এখন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে।
তবে এক্ষেত্রে মুমিনুলকে জানাতে হবে তিনি টেস্ট দলের দলপতি হিসেবে থাকতে চান কি না। উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য এরই মধ্যে মুমিনুলকে অধিনায়ক করে টেস্ট দল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ সফরের আগে আগামী ২ জুন সভা ডেকেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে মুমিনুল নিজে টেস্ট দলের দায়িত্ব থেকে সড়ে দাঁড়িয়ে শুধু ব্যাটার হিসেবে দলে খেলতে চাইলে অধিনায়কত্বের জন্য জোর করবে না বিসিবি।
আর সে ক্ষেত্রে দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের অধিনায়ক সাকিবই পেতে যাচ্ছেন টাইগারদের সাদা পোশাকের দায়িত্ব। এদিকে সাকিবের সঙ্গেও নাকি এ বিষয়ে কথা সেরে রেখেছে বোর্ড, এমনটাই জানা গেছে। এমন কিছুতে নাকি সম্মতিও দিয়েছেন দেশসেরা এ অলরাউন্ডার।
কিন্তু যদি মুমিনুল নিজে থেকে টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়তে না চান বা অধিনায়কত্বের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান, তাহলে আগামী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হবে তার জন্য শেষ সুযোগ। এ সিরিজে ভালো না করতে পারলে হয়তো বিসিবির কথায় তাকে ছাড়তেই টেস্ট দলের নেতৃত্ব।
সদ্য শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর মুমিনুলের সঙ্গে বিসিবি সভাপতির যে মিটিং হয়েছে সেখানে মুমিনুল স্বীকার করে নিয়েছেন, অধিনায়কত্বের চাপের কারণে হয়তো তিনি ব্যাটিংয়ে খেই হারিয়েছেন।
এমন সুর মিলেছে বিসির কর্মকর্তাদের কথাতেও। গতকাল বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুসমিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অধিনায়কত্ব বাড়তি একটা চাপ অবশ্যই (মুমিনুলের জন্য)। ব্যাটিংয়ে রান না পাওয়ায় হয়তো বাকিদের অনুপ্রাণিত করতে তার সমস্যা হচ্ছে। যেহেতু রান করছে না, সেটিও তার মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যাটিংয়েও একটা প্রভাব পড়তে পারে। সেই সিদ্ধান্ত নেবে কোনটা হলে ওর ভালো হয়।’
এর আগে শুক্রবার সিরিজ হারের পর আরেকবার মুমিনুল হকের অধিনায়ক হিসেবে দলে থাকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। যে প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, ‘আজকে ওর সঙ্গে একটু ব্রিফলি বসেছি। সামনে আরও বসবো, কাল-পরশু ওর সাথে বসবো লম্বা আলোচনায়। দেখি আলোচনা করে ও কী মনে করে, আমরা বের করে ফেলব।’
সাদাপোশাকের অধিনায়কত্বের আলোচনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে ২ জুন বিসিবির সভার পর।
এসও/এমএএম




