কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ব্যর্থ অভিযান শেষে কোচের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন টিটে। পরে শুরু হয় সেলেসাওদের কোচ নিয়ে নানা আলোচনা-নাটকীয়তা। সব ছাপিয়ে নেইমার-ভিনিসিয়াসদের কোচিংয়ের দায়িত্বে আসেন দরিভাল জুনিয়র। শুরুতে কোপা আমেরিকা পর্যন্ত আলোচনা থাকলেও এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ৬২ বর্ষী ডোরিভাল।
উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে নেইমারবিহীন ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই ব্যর্থতায় অনেকেই কোচ দরিভালের কৌশলের দায় দেখছেন। পুরো টুর্নামেন্টে চার ম্যাচের কেবল একটিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচটা বাদ দিলে বাকি তিন ম্যাচে সেলেসাওদের গোল মাত্র একটি।
কোপা আমেরিকায় এমন ব্যর্থতার পরও দরিভালের ওপর আস্থা রাখছেন ব্রাজিল ফুটবলের নীতি-নির্ধারকরা। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এডনাল্ডো রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ডরিভালই থাকছেন প্রধান কোচ হিসেবে।
কলম্বিয়া, উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে ব্রাজিলের জার্সির রঙ দেখে চেনা ছাড়া উপায় ছিল না। এমন বাজে পারফরম্যান্সের পর কোচের পদে ডরিভালের থাকা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এডনাল্ডোর কথায় নিশ্চিত যে, সহসাই ডরিভালে আস্থা হারাচ্ছে না তারা।
ইএসপিএন ব্রাজিলকে এডনাল্ডো বলেন, 'আগামী দুই মাসের মধ্যে আমাদের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের খেলা আছে, তাই পরিকল্পনা হচ্ছে তাকে নিয়েই চালিয়ে যাওয়া।' কেন দরিভালকে রাখা হচ্ছে সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি, ‘বিশ্বকাপের চক্র শুরু হয়ে গেছে। সে এবং তার কোচিং স্টাফরা জানেন, কোথায় কোথায় পরিবর্তন দরকার। ভুলটা কোথায় তা দরিভাল খুঁজে বের করেছেন। এভাবেই একটা জয়ী দল গড়ে ওঠে।'
কোপা আমেরিকায় ব্যর্থতায় দায় দরিভাল নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। তবে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং উন্নতি এনে দিতে তিনি সচেষ্ট বলেও জানান তিনি। এডনাল্ডোও কোচের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা (কোপা আমেরিকা) জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা এটাও জানতাম নতুন একটা দলের সঙ্গে কাজের শুরু মাত্র। এখানে যারা মাত্র আসা তরুণ খেলোয়াড়রা আছেন। তাদের সময় দিতে হবে।'




