প্রচণ্ড গরমে রোদের তাপে ঘরের দেওয়াল এতটাই গরম হয়ে যায় যে হাত দেওয়া যায় না। এই সমস্যার সমাধানে সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির (NTU) গবেষকরা ‘ঘাম ঝরানো’ সিভিপি-থার্টি (CCP-30) নামের একটি বিশেষ কুলিং পেইন্ট বা রং তৈরি করেছেন। সায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এই পেইন্ট দেওয়ালে ব্যবহার করলে তা ঘরের তাপমাত্রা সাধারণ সাদা পেইন্টের তুলনার সাড়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি কমিয়ে দেয়।
_20260829_132806960.jpeg)
মানুষের শরীরের ঘামের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে এই পেইন্ট তৈরি করা হয়েছে। মানুষের শরীর যেমন ঘামলে এবং বাতাস লাগলে ঠান্ডা হয়, তেমনই এই পেইন্ট বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে তা বাষ্পে পরিণত করে উড়িয়ে দেয়, যার ফলে দেওয়াল ও ঘর ঠান্ডা থাকে। এছাড়া প্যাসিভ রেডিয়েটিভ কুলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি ঘরের তাপ শোষণ করে সরাসরি আকাশের দিকে বের করে দেয়। তবে শুষ্ক আবহাওয়ায় এই প্রযুক্তি সবচেয়ে ভালো কাজ করলেও ভ্যাপসা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় প্রচলিত কুলিং পেইন্টগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এই সমস্যার সমাধান করতেই গবেষকরা সিমেন্ট ব্যবহার করে ক্যালসিয়াম সিলিকেট হাইড্রেট (Calcium Silicate Hydrate) নামের বিশেষ পদার্থ দিয়ে এই জালের মতো গঠনযুক্ত ও সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত জেল পেইন্ট তৈরি করেছেন, যা স্পঞ্জের মতো জল আটকে রেখে বাষ্পীভূত হওয়ার সময় দেওয়াল থেকে তাপ সরিয়ে নেয়।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ ছাড়াই এসির মতো ঠান্ডা করবে নতুন ন্যানো ম্যাটেরিয়াল
সিঙ্গাপুরের আবহাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চালানো পাইলট টেস্টে দেখা গেছে, এই পেইন্ট সূর্যের আলোর প্রায় ৮৮ থেকে ৯২ শতাংশ প্রতিফলিত করতে পারে এবং শোষিত শক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ ইনফ্রারেড রেডিয়েশন হিসেবে বাইরে বের করে দেয়। এটি নিজের ওজনের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জল শোষণ করতে সক্ষম। ট্রপিক্যাল আবহাওয়ায় এটি বাণিজ্যিক কুলিং পেইন্টের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি কুলিং পাওয়ার প্রদান করে। এই পেইন্ট ব্যবহারের ফলে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি চালানোর বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
এজেড




