বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্পের প্রভাবে প্রতি বছর অগণিত মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার কারণেই মূলত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয়। এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ নিত্যনতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। এমনই এক চমকপ্রদ প্রযুক্তি হলো 'এয়ার ড্যানশিন' (Air Danshin), যা ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাড়িকে মাটি থেকে কয়েক সেন্টিমিটার উপরে তুলে দেয়। শুনতে সায়েন্স ফিকশনের মতো মনে হলেও, বাস্তবেই জাপানে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
এয়ার ড্যানশিন সিস্টেমস ইনকরপোরেটেড নামক একটি জাপানি সংস্থা এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই ব্যবস্থায় বাড়িটিকে একটি বিশেষ বায়ু প্রকোষ্ঠের ওপর নির্মাণ করা হয়। বাড়ির ভেতরে বসানো সিসমিক সেন্সর ভূমিকম্পের কম্পন শনাক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে প্রকোষ্ঠের ভেতর সংকুচিত বাতাস প্রবেশ করানো হয়। এতে বাড়িটি মাটি থেকে প্রায় ৩ সেন্টিমিটার উপরে ভেসে ওঠে, ফলে ভূ-কম্পনের সরাসরি প্রভাব বাড়ির কাঠামোর ওপর পড়ে না। কম্পন থেমে গেলে সিস্টেমটি বাড়িটিকে আবার আগের অবস্থানে নামিয়ে আনে।

সাফল্য ও প্রয়োগ
এই প্রযুক্তি শুধু পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ নেই; জাপানে ইতিমধ্যে প্রায় ৯০টি বাড়ি ও ভবনে এটি সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভূমিকম্পের তরঙ্গ অনুভূত হওয়ার এক সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যে এই ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ঘুমানোর সময় ভূমিকম্প হলে জীবন বাঁচাতে পারে এই বিশেষ খাট!
জরুরি অবস্থার জন্য এতে ব্যাটারি ব্যাকআপের ব্যবস্থাও রয়েছে, ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলেও এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে সক্ষম। সংস্থাটি শুধু সাধারণ বাড়ির জন্যই নয়, বরং বড় কারখানা এবং গবেষণাগারের জন্যও এই প্রযুক্তির বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছে।

সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রযুক্তিটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমান সংস্করণে এটি মাঝারি মানের ভূমিকম্পের কম্পন ভালোমতো সামলাতে পারলেও, অত্যন্ত শক্তিশালী বা বিভিন্ন দিক থেকে আসা ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি কার্যকর কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। বর্তমানে এই সিস্টেমের নকশা আরও উন্নত করার কাজ করছে এয়ার ড্যানশিন, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারেও এটি ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
এজেড




