উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত আলাস্কার ডেনালি ন্যাশনাল পার্কে ২০০২ সালের নভেম্বরে ৭.৯ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই বিধ্বংসী বিপর্যয়ের উৎস নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর ভূবিজ্ঞানীরা এখন ভূমিকম্পের একটি সুনির্দিষ্ট সরলরেখা বা ক্ষুরধার প্রান্তরেখার হদিস পেয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পন বিশারদ মেঘান মিলারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল আমেরিকার ‘দ্য সিসমিক রেকর্ড’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় মেশিন লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অতীতের ধারাবাহিক ছোট-বড় ভূমিকম্পের একটি সূচি তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে দেখা যায় যে একটি নির্দিষ্ট রেখা বরাবর বারবার কম্পন অনুভূত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উত্তর আমেরিকা পাতের পাশে থাকা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘ইয়াকুটাত’ নামের একটি মাইক্রোপ্লেট উত্তর আমেরিকা পাতের নিচে ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে। এই ইয়াকুটাত মাইক্রোপ্লেটের প্রান্তরেখাটি এত স্পষ্টভাবে আগে কখনো ধরা পড়েনি, তবে আধুনিক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সহায়তায় ২৫০ কিলোমিটার লম্বা এই রৈখিক গুচ্ছটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ভূমিকম্পের শব্দতরঙ্গ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, উত্তর আমেরিকা পাতের নিচে ইয়াকুটাত পাতের বিস্তৃতি বিজ্ঞানীদের পূর্বের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি। পাতগুলোর এই ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে ওই অঞ্চলে প্রবল ভূ-তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যা দক্ষিণ-মধ্য আলাস্কায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির আচরণে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। গবেষকদের মতে, পাতগুলোর এই ঘনসন্নিবিষ্ট সংযোগস্থলটিই মূলত ২০০২ সালের ৭.৯ মাত্রার ডেনালি ভূমিকম্পের পটভূমি তৈরি করেছিল। বর্তমানে ডেনালি ফল্ট এবং ইয়াকুটাত পাত নিয়ে আরও বিশদ গবেষণার পথ প্রশস্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলের ভূ-তাত্ত্বিক ঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করবে।
এজেড



