আজ ৩১ মে রবিবার রাতের আকাশে দেখা যাবে এক চমৎকার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য ‘ব্লু মুন’ বা নীল চাঁদ। মহাকাশপ্রেমী ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দারুণ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তবে নামের সাথে ‘ব্লু’ বা নীল শব্দটা জড়িয়ে থাকলেও, আজ রাতের চাঁদ কিন্তু মোটেও নীল রঙের হয়ে যাবে না। এটি মূলত একটি বিরল মহাজাগতিক হিসাবের নাম, যা কয়েক বছর পর পর মহাকাশে ঘটে থাকে। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে শেষবার এমন ব্লু মুন দেখা গিয়েছিল, যার পর আজ ২০২৬ সালের ৩১ মে আবারও এই সুযোগ এসেছে।
আসলে ‘ব্লু মুন’ কী?
বিজ্ঞাপন
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ নিয়ম ভেঙে যখন একই ইংরেজি ক্যালেন্ডার মাসে দুইটি পূর্ণিমা (Full Moon) দেখা যায়, তখন দ্বিতীয় পূর্ণিমার চাঁদটিকে ‘ব্লু মুন’ বলা হয়। চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ২৯.৫ দিন, যা আমাদের প্রচলিত মাসগুলোর দিনের চেয়ে কিছুটা কম। এই সময়ের পার্থক্যের কারণে প্রতি ২ থেকে ৩ বছর পর পর এমন একটি কাকতালীয় ঘটনা ঘটে, যেখানে মাসের একদম শুরুতে একটি পূর্ণিমা এবং মাসের শেষে আরেকটি পূর্ণিমা দেখা যায়। চলতি মে মাসের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটেছে।

কখন ও কেমন দেখা যাবে এই চাঁদ?
আজ ৩১ মে ব্লু মুন তার পূর্ণ রূপ নিয়ে আকাশে হাজির হবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন দেশে এটি দেখার সময়ে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। যেমন— এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মানুষ আজ ৩১ মে রাতে চাঁদটিকে সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখতে পাবেন। অন্যদিকে আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের আকাশে ৩০ ও ৩১ মে— দুই রাতেই এই পূর্ণিমার চাঁদ দৃশ্যমান হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে সূর্যোদয়ের ঠিক আগে, ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে এটি স্পষ্ট দেখা যেতে পারে। বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা ও অন্যান্য উপাদানের কারণে উদয়ের সময় চাঁদটিকে কিছুটা কমলা বা সোনালী রঙের মনে হতে পারে, তবে আকাশে যত ওপরে উঠবে, এটি তার চেনা উজ্জ্বল সাদা রূপেই ফিরে আসবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: মেগা এল নিনো: খরা ও রেকর্ড ভাঙা গরমে পুড়তে পারে বিশ্ব
একই সাথে এটি একটি ‘মাইক্রো মুন’
আজ রাতের ব্লু মুনের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, এটি একই সাথে একটি ‘মাইক্রো মুন’ বা ক্ষুদ্রাকৃতির চাঁদ। চাঁদ যখন তার ডিম্বাকার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে (যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাপোজি’ বলা হয়) অবস্থান করে, তখনকার পূর্ণিমাকে মাইক্রো মুন বলা হয়। দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে এই চাঁদকে স্বাভাবিক পূর্ণিমার চেয়ে আকারে কিছুটা ছোট দেখায়। পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার, সেখানে আজ অ্যাপোজির কারণে এই দূরত্ব বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৯৩ কিলোমিটারে। ফলে আজকের চাঁদটি একাধারে যেমন মাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমা অর্থাৎ ‘ব্লু মুন’, তেমনি দূরত্বের কারণে এটি একটি ‘মাইক্রো মুন’ হিসেবেও গণ্য হচ্ছে।
এজেড




