শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট আগে থেমে গেল ইলন মাস্কের স্বপ্নের রকেট

বিজ্ঞান ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ১০:১২ এএম

শেয়ার করুন:

উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট আগে থেমে গেল ইলন মাস্কের স্বপ্নের রকেট

প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেল ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স-এর স্বপ্নের রকেট স্টারশিপের বহুল প্রতীক্ষিত উৎক্ষেপণ। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই রকেট সিস্টেমটি ওড়ার জন্য যখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, ঠিক তখনই কাউন্টডাউনের শেষ মিনিটে ধরা পড়ে বড় ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ। একাধিকবার কাউন্টডাউন থামিয়েও শেষ রক্ষা না হওয়ায় আপাতত এই উড্ডয়ন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন স্পেসএক্সের প্রকৌশলীরা। তবে এই আকস্মিক বিলম্বের প্রভাব শুধু একটি রকেট পরীক্ষার মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মর্যাদাপূর্ণ 'আর্টেমিস মুন মিশন' এবং খোদ স্পেসএক্সের আসন্ন আইপিও (IPO) লঞ্চের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর বড় ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। 

শেষ মুহূর্তে যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থামল রকেট


বিজ্ঞাপন


স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে এই পরীক্ষাকে স্টারশিপের ১২তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট টেস্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ১২৪ মিটারেরও বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট তৃতীয় প্রজন্মের এই বিশাল রকেটটিকে আগের সংস্করণগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও নিরাপদ দাবি করা হলেও, কাউন্টডাউনের শেষ মুহূর্তে এর হাইড্রোলিক সিস্টেমে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়ে。 খোদ এলন মাস্ক নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল 'এক্স' (X)-এ এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, লঞ্চ টাওয়ারের যে আর্ম বা হাতলটি রকেটকে ধরে রাখে, সেটির হাইড্রোলিক পিনটি যথাসময়ে সরে যায়নি। এই বড় ধরনের সুরক্ষাজনিত ঝুঁকির কারণেই শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকৌশলীরা এই ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার পর পরবর্তী সুযোগে আবারও রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালাবেন বলে জানানো হয়েছে। 

78918_fwza

নাসার চন্দ্র অভিযান ও আমেরিকার মহাকাশ পলিসিতে বড় ধাক্কা

স্টারশিপের এই বিলম্ব মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্টেমিস মিশনের অধীনে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মার্কিন মহাকাশচারী নামানোর যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার জন্য লুনার ল্যান্ডার হিসেবে স্টারশিপের সফল হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য কক্ষপথে জ্বালানি ভরার জটিল প্রযুক্তিটি এই পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রমাণ করার কথা ছিল। অন্যদিকে চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত কাজ করছে। ফলে মার্কিন মহাকাশ নীতি ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি স্টারশিপের পরীক্ষাগুলো বারবার এভাবে পিছিয়ে যায়, তবে চাঁদে মানুষ পাঠানোর মহাকাশ প্রতিযোগিতায় আমেরিকা চিরতরে চীনের চেয়ে পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। 


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে টানা ৬ মিনিট অন্ধকারে থাকবে পৃথিবী

বিনিয়োগকারীদের মনে বাড়ছে সংশয়, স্পেসএক্সের আইপিও কি ঝুঁকির মুখে?

রকেট উৎক্ষেপণের ঠিক একদিন আগেই মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ইতিহাসের অন্যতম বড় আইপিও (IPO) আনার চূড়ান্ত নথিপত্র জমা দিয়েছিল স্পেসএক্স। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে এই পরীক্ষাটি সফল হলে কোম্পানির বাজারমূল্য ও ইলন মাস্কের ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পথ আরও সুগম হতো। কিন্তু রকেটটি রানওয়েতেই আটকে যাওয়ায় বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে বেসরকারি বড় বড় বিনিয়োগকারী—সবার মনেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরাসরি আইপিও বাতিল না হলেও, বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্লেষকদের মতে, স্টারশিপের বারবার এই প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা ও উড্ডয়নে বিলম্ব মহাকাশ খাতের বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের চির ধরাতে পারে, যা স্পেসএক্সের বাজারমূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর