পৃথিবীর মানুষ যখন লিরিড (Lyrid) উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের শ্বাসরুদ্ধকর কিছু ছবি তুলেছেন মহাকাশচারীরা। সম্প্রতি নাসা (NASA) সেই ছবিগুলো প্রকাশ করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২০২৬ সালের এই উল্কাবৃষ্টির পূর্ণ রূপ ধরা পড়েছে স্টেশনের ‘কাপোলা অবজারভেশন মডিউল’ থেকে।
কক্ষপথ থেকে উল্কার ঝলকানি
বিজ্ঞাপন
পৃথিবী থেকে সাধারণত আমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে উল্কাপাত দেখি, কিন্তু মহাকাশ স্টেশনের ছবিতে দেখা গেছে ভিন্ন এক রূপ। ছবিতে নিচের দিকে পৃথিবীর উজ্জ্বল বক্ররেখা আর উপরে মহাকাশের অন্ধকারে তীক্ষ্ণ আলোর ঝলক নিয়ে ছুটে চলা উল্কাগুলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তিন সেকেন্ডের ক্যামেরা এক্সপোজার ব্যবহার করে তোলা এই ছবিতে শহরের আলোগুলোকে ঝলমলে রেখার মতো মনে হচ্ছিল।

কেন এবং কীভাবে হয় লিরিড উল্কাবৃষ্টি?
বিজ্ঞানীদের মতে, লিরিড উল্কাবৃষ্টি ঘটে যখন পৃথিবী ধূমকেতু 'থ্যাচার'-এর ফেলে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এই ক্ষুদ্র ধূলিকণাগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং বাতাসের ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে। একেই আমরা সহজ ভাষায় ‘শ্যুটিং স্টার’ বা তারা খসা বলি। লায়রা নক্ষত্রমণ্ডল থেকে এগুলো বিচ্ছুরিত হয় বলে এর নাম দেওয়া হয়েছে লিরিড।
বিজ্ঞাপন
দেখার সেরা সময় ও উপায়
প্রতি বছর ২১ ও ২২ এপ্রিল এই উল্কাবৃষ্টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। পরিষ্কার অন্ধকার আকাশ এবং শহরের আলো থেকে দূরে থাকলে এটি সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। ভোররাতের দিকে সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় বেশ কয়েকটি উল্কা এবং মাঝে মাঝে উজ্জ্বল ‘ফায়ারবল’ বা আগুনের গোলার মতো উল্কাও দেখা যেতে পারে।
মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা এই ছবিগুলো কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মহাকাশের উপাদানের সঙ্গে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রতিক্রিয়া বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্য দিয়ে সহায়তা করে।
এজেড




