আধুনিক এলইডি (LED) লাইটের যুগে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি সুইচ চাপার সঙ্গে সঙ্গে আলো জ্বলতে দেখে। কিন্তু বাড়িতে থাকা পুরনো প্রযুক্তির ফ্লুরোসেন্ট টিউবলাইটগুলো সুইচ অন করার পর কয়েক সেকেন্ড সময় নেয়। কখনো কখনো কয়েকবার মিটমিট করে জ্বলার পর এটি পূর্ণ আলো দেয়। সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে চোক, স্টার্টার এবং গ্যাসের এক জটিল বিজ্ঞান।
কেন সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে না টিউবলাইট?
বিজ্ঞাপন
পুরনো টিউবলাইটের ভেতরে থাকে আর্গন গ্যাস এবং পারদ বাষ্প। এই গ্যাস থেকে আলো বের করতে হলে সেটিকে প্রথমে 'আয়নিত' বা উত্তেজিত করতে হয়। সাধারণ ২২০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সরাসরি এই গ্যাসকে উত্তেজিত করতে পারে না। ফলে সুইচ টেপার পর টিউবের দুই প্রান্তের ফিলামেন্ট গরম হতে এবং গ্যাসের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের পথ তৈরি হতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে।
স্টার্টার ও চোক-এর ভূমিকা
টিউবলাইটের সঙ্গে লাগানো ছোট সিলিন্ডার আকৃতির যন্ত্রটিই হলো স্টার্টার। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় সুইচের মতো কাজ করে।
ফিলামেন্ট গরম হওয়া: সুইচ অন করলে বিদ্যুৎ প্রথমে স্টার্টারের মধ্য দিয়ে গিয়ে ফিলামেন্টকে গরম করে।
বিজ্ঞাপন
ভোল্টেজ শক: স্টার্টারটি কয়েকবার অন-অফ হওয়ার মাধ্যমে টিউবের ভেতরে থাকা 'চোক' (Ballast)-এ একটি উচ্চ ভোল্টেজের ধাক্কা বা 'সার্জ' তৈরি করে।
আরও পড়ুন: ইন্ডাকশন ওভেনের জন্য কী ধরনের হাড়ি-পাতিল কিনবেন?
আয়নাইজেশন: এই উচ্চ ভোল্টেজের ধাক্কায় টিউবের ভেতরের গ্যাস আয়নিত হয় এবং অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত করে, যা টিউবের ভেতরের সাদা ফসফর স্তরে লেগে আমাদের চোখে আলো হিসেবে ধরা দেয়।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ২ থেকে ৫ সেকেন্ড সময় লাগে বলেই টিউবলাইটটি শুরুতে মিটমিট করে।
এলইডি (LED) লাইট কেন দ্রুত জ্বলে?
এলইডি লাইটে কোনো গ্যাস বা স্টার্টারের প্রয়োজন হয় না। এটি সরাসরি ইলেকট্রনিক ড্রাইভারের মাধ্যমে চলে। সুইচ অন করার সাথে সাথে সেমিকন্ডাক্টর চিপে বিদ্যুৎ পৌঁছে যায় এবং কোনো রকম গরম হওয়া বা ভোল্টেজ শকের অপেক্ষা ছাড়াই আলো দেয়। এছাড়া এলইডি লাইট সাধারণ টিউবলাইটের চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে।
কখন টিউবলাইট বা স্টার্টার বদলাবেন?
যদি দেখেন আপনার টিউবলাইটটি দীর্ঘক্ষণ মিটমিট করছে কিন্তু জ্বলছে না, তবে বুঝতে হবে স্টার্টারটি দুর্বল হয়ে গেছে। আবার টিউবের দুই প্রান্ত যদি কালো হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এর ভেতরের গ্যাস ফুরিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় পুরনো টিউব বদলে আধুনিক এলইডি টিউব লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ, যা আপনার চোখের আরাম দেবে এবং বিদ্যুৎ বিলও সাশ্রয় করবে।
এজেড

