মানুষ কেন পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ায়, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা। এটি কেবল নৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে জটিল জৈবিক, বিবর্তনীয় এবং মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
মনোবিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানের আলোকে পরকীয়ার মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিজ্ঞাপন
১. মস্তিষ্কের রসায়ন ও হরমোনের প্রভাব
বিজ্ঞানের মতে, পরকীয়ার পেছনে মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ এবং হরমোন বড় ভূমিকা পালন করে-

ডোপামিন আসক্তি: নতুন সম্পর্কের শুরুতে মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে 'ডোপামিন' নিঃসৃত হয়, যা মানুষকে চরম আনন্দ দেয়। অনেকে এই নতুনত্বের 'হাই' বা নেশা অনুভব করার জন্য বারবার নতুন সম্পর্কে জড়ান।
বিজ্ঞাপন
টেস্টোস্টেরন: গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি, তাদের মধ্যে পরকীয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

২. বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট
বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আদিমকালে বংশবৃদ্ধির হার বাড়ানোর তাগিদ থেকে মানুষের অবচেতন মনে একাধিক সঙ্গীর আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে:
পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি: পুরুষরা বিবর্তনীয়ভাবে অধিক সংখ্যক সঙ্গীর মাধ্যমে তাদের বংশগতি ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রবৃত্তি ধারণ করতে পারে।
নারীর দৃষ্টিভঙ্গি: নারীরা অনেক সময় অধিক সম্পদশালী বা ভালো জিনসম্পন্ন 'ব্যাক-আপ' সঙ্গীর খোঁজে পরকীয়ায় জড়াতে পারেন, যা তাদের সন্তানের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।

৩. ব্যক্তিত্বের ধরন ও মানসিক বৈশিষ্ট্য
মনোবিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিত্বের মানুষের মধ্যে পরকীয়ার হার বেশি লক্ষ্য করেছেন:
নার্সিসিজম (Narcissism): যারা নিজেদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন এবং অন্যের অনুভূতির তোয়াক্কা করেন না, তাদের মধ্যে পরকীয়ার প্রবণতা বেশি। তারা মূলত নিজেদের ইগো বা অহংবোধ তৃপ্ত করতে বাইরের সম্পর্ক খোঁজেন।
অ্যাটাসমেন্ট স্টাইল: যাদের শৈশবে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল (Insecure Attachment), তারা বড় হয়ে সম্পর্কের গভীরতায় ভয় পান এবং পালানোর পথ হিসেবে পরকীয়ায় জড়ান।

৪. মনস্তাত্ত্বিক অতৃপ্তি ও প্রতিশোধ
সব পরকীয়া কেবল শারীরিক চাহিদার জন্য হয় না; এর পেছনে গভীর আবেগীয় কারণও থাকে:
অবহেলা ও নিঃসঙ্গতা: সঙ্গীর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সময়, সম্মান বা ভালোবাসা না পেলে মানুষ অন্য জায়গায় মানসিক আশ্রয় খোঁজে।
প্রতিশোধ: সঙ্গী আগে প্রতারণা করলে বা কষ্ট দিলে, অনেক সময় রাগের বশবর্তী হয়ে মানুষ প্রতিশোধ নিতে পরকীয়া করে।

৫. সুযোগ ও পরিবেশ
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময় কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কেবল পরিস্থিতির শিকার হয়ে (Situational Infidelity) মানুষ ভুল করে বসে। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় কাটানো বা মদ্যপ অবস্থায় বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়া এর অন্যতম কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: ইঁদুর বা মানুষের শরীরে নয়, এবার কৃত্রিম হৃদযন্ত্রে হবে ওষুধের পরীক্ষা!
মনোবিজ্ঞানী জাস্টিন লেমিলার তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, পরকীয়া মানেই যে বর্তমান দাম্পত্য সম্পর্কটি খারাপ, তা সবসময় ঠিক নয়। অনেক সময় সুখী সম্পর্কের মানুষও স্রেফ নতুন অভিজ্ঞতা বা উত্তেজনার খোঁজে এই পথে পা বাড়ায়।
এজেড

