গরমের সময় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়ার ভয় থাকলেও শীতকালে চিত্রটা ভিন্ন। শীতের শীতল আবহাওয়ায় ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ঠিকমতো সেট না করলে খাবার বেশি জমে যেতে পারে কিংবা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তাই খাবারের গুণমান বজায় রাখতে এবং ফ্রিজের স্থায়িত্ব বাড়াতে শীতকালীন তাপমাত্রা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।
শীতকালে ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা কত?
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ফ্রিজের তাপমাত্রা গরমে রাখা তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে রাখা উচিত। সাধারণত একটি আদর্শ রেফ্রিজারেটরের জন্য নিচের সেটিংস অনুসরণ করা ভালো:
নরমাল বা রেফ্রিজারেটর অংশ: শীতকালে ফ্রিজের এই অংশের তাপমাত্রা ২° সে. থেকে ৪° সে. (৩৫° ফা. থেকে ৪০° ফা.)-এর মধ্যে রাখা সবচেয়ে কার্যকর। যদি আপনার ফ্রিজে ১ থেকে ৮ পর্যন্ত নম্বর থাকে, তবে শীতকালে ৩ বা ৪-এ রাখা নিরাপদ।

ফ্রিজার বা ডিপ অংশ: ফ্রিজারের তাপমাত্রা সবসময় হিমাঙ্কের নিচে রাখা প্রয়োজন। শীতকালে এটি -১৫° সে. থেকে -১৮° সে. (০° ফা.)-এর মধ্যে রাখা উচিত।
বিজ্ঞাপন
শীতকালে তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা কেন?
১. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: বাইরের আবহাওয়া এমনিতেই ঠান্ডা থাকে, তাই ফ্রিজকে ভেতরে ঠান্ডা রাখার জন্য খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় না। তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে রাখলে কম বিদ্যুৎ খরচ হয়।
২. খাবার ভালো রাখা: শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডায় শাকসবজি বা ফলমূল ফ্রিজের ভেতর অনেক সময় জমে যায় বা বরফ হয়ে যায় (ফ্রিজার বার্ন)। সঠিক তাপমাত্রা সেট করলে খাবারের স্বাভাবিক স্বাদ ও পুষ্টি বজায় থাকে।
৩. ফ্রিজের কম্প্রেসর রক্ষা: তাপমাত্রা সঠিক থাকলে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে, যা ফ্রিজের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।

শীতকালীন কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
ফ্রিজ খালি রাখবেন না: ফ্রিজ একদম খালি থাকলে ভেতরে বাতাস বেশি থাকে এবং তা ঠান্ডা করতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই ফ্রিজে অন্তত পানি বা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার রাখার চেষ্টা করুন।
দরজা কম খোলা: শীতকালে বারবার ফ্রিজের দরজা খুলবেন না। এতে ভেতরের শীতল বাতাস বাইরে বেরিয়ে যায় এবং আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট হয়।
ভেন্টিলেশন ঠিক রাখা: ফ্রিজের পেছনে বা চারপাশে দেয়াল থেকে অন্তত ৬ ইঞ্চি ফাঁকা রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
আরও পড়ুন: মানুষ ধোয়ার ওয়াশিং মেশিন উদ্ভাবন করল জাপান, দাম কত?
সঠিক নিয়ম মেনে ফ্রিজ ব্যবহার করলে কেবল খাবারই সতেজ থাকবে না, মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও থাকবে আপনার নাগালে।
এজেড

