সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

শবে বরাতে জামাতে নফল পড়ার সুযোগ নেই

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৩, ০৫:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

শবে বরাতে জামাতে নফল পড়ার সুযোগ নেই

শবে বরাত একটি মর্যাদাপূর্ণ রাত। এই রাতে একাকী নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, জিকির, দান-সদকা, তাওবা-ইস্তেগফারের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)

এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে (শবে বরাত) তখন তোমরা রাতে নামাজ পড়ো, আর দিনের বেলা রোজা রাখো। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডোবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন, কোনো গুনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি আমার কাছে (গুনাহ ক্ষমা চাইবে)? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোনো রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দিব। কোনো বিপদগ্রস্ত মুক্তি পেতে চায় কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব। আছে কি এমন, আছে কি তেমন? এমন বলতে থাকেন ফজর পর্যন্ত।’ (ইবনে মাজাহ,: ১৩৮৮, শুয়াবুল ঈমান: ৩৮২২)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: তাহাজ্জুদ কষ্টকর হলে ন্যূনতম যে আমলটি করবেন

এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে নবীজির নামাজ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন—‘একবার রাসুলুল্লাহ (স.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হলো- তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না- হে আল্লাহর রাসুল। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। তখন নবী (স.) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (স.) তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত (শবে বরাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুয়াবুল ঈমান, বায়হাকি: ৩/৩৮২-৩৮৩; তাবারানি: ১৯৪)

আমাদের সমাজে অনেক জায়গায় শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে জামাতে বিশেষ নফল নামাজ পড়ার প্রচলন রয়েছে। অথচ এমন নামাজের সঙ্গে সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। জামাতে নামাজের ব্যাপারে একটি মূলনীতি হলো—ফরজ নামাজ এবং যেসব নামাজ রাসুলুল্লাহ (স.) জামাতের সাথে আদায় করেছেন, যেমন তারাবি, বিতির, ইসতিসকা—এসব নামাজ ছাড়া সব ধরনের নফল বাড়িতে পড়া উত্তম। ফরজ নামাজের বৈশিষ্ট্য হলো, তা জামাতের সঙ্গে আদায় করার নামাজ। আর সুন্নত ও নফলের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, তা নিজ ঘরে আদায় করা উত্তম। হজরত আবদুল্লাহ বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে ঘরের নামাজ এবং মসজিদের নামাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তুমি দেখছ, মসজিদ আমার ঘরের এত নিকটে হওয়া সত্ত্বেও ফরজ নামাজ ব্যতীত অন্যান্য নামাজগুলো আমি ঘরে পড়তেই ভালোবাসি।’ (শামায়েলে তিরমিজি: ২৮০)

আরও পড়ুন: আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের উপায়


বিজ্ঞাপন


তাই ফরজ নামাজ মসজিদে আদায় করতে হবে। মূলত এর মাধ্যমে ইসলামের একটি শিআর ও শক্তি প্রকাশ করা উদ্দেশ্য। সুতরাং তা মসজিদেই আদায় করতে হবে। আর নফল নামাজ হলো বান্দা ও প্রভুর সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ইবাদত। এই ইবাদতের যেহেতু বাধ্য-বাধকতা নেই, তাই তা চুপিসারে আল্লাহর জন্য একাকী করাই উত্তম। যেকোনো ক্ষেত্রে তিনজনের বেশি ব্যক্তি জামাত করে নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। (রদ্দুল মুহতার: ২/৪৯, আহসানুল ফতোয়া: ৩/৪৯৩, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২/১৯৮)

শবে বরাত বলেন কিংবা শবে কদর কোনো রাতেই নফল নামাজের নির্দিষ্ট রাকাত নেই। যত খুশি নামাজ পড়া যাবে। সারারাত জাগ্রত থেকে নামাজ পড়া যাবে। নিয়ত করবেন কীভাবে? বলবেন, ‘আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ছি আল্লাহু আকবর’। এভাবে সংকল্প করলেই নিয়ত শুদ্ধ হবে। তবে এখানে সুরা ফাতিহা একবার আর সুরা ইখলাস তিনবার বা সুরা ওয়াকেয়া একবার—এমন কোনো কথা হাদিসে নেই। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাই সুরা ফাতিহার পরে যেকোনো সুরা দিয়ে নামাজ পড়লেই নামাজ হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত-বন্দেগী করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর