বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

কালের সাক্ষী বেলাব বাজার জামে মসজিদ

শফিকুল ইসলাম শফিক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

কালের সাক্ষী বেলাব বাজার জামে মসজিদ

প্রায় তিনশ বছর পূর্বে জমিদাররা নির্মাণ করেছিলেন। এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেলাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। বাংলাদেশের সেরা মসজিদগুলোর তালিকায় পরিচিত এক নাম নরসিংদী জেলার সর্ববৃহৎ দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি। 

স্থানীয়দের মাঝে বহু লোকগাথা প্রচলিত আছে এ মসজিদ নিয়ে। তেমন একটি হলো- মসজিদটি প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে লোকাতীতভাবে মসজিদের ভেতর থেকে কোরআন তেলাওয়াত শোনা যেত। এরপর এলাকাবাসীর কাছে পরিচিতি লাভ করে মসজিদটি। 


বিজ্ঞাপন


এছাড়া মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতার প্রশ্নেও রয়েছে নানান মতপার্থক্য। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের জমিদাতা দেওয়ান আয়েশা আক্তার খাতুন এ মসজিদের জন্যও জমি দান করেছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন সাং বীরবাঘবের গ্রামের বাসিন্দা জনাব মাহমুদ ব্যাপারী এ মসজিদের জমিদাতা। 

বেলাব মসজিদ

মসজিদের পুনর্নির্মাণে সহযোগিতা করেছিলেন থার্মেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জনাব আব্দুল কাদির মোল্লা। ২০০৬ সালে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০০৮ সালে। আনুমানিক তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ২০০৮ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পে ব্যয় হয় তিন কোটি বিশ লাখ টাকা।

পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে মসজিদের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য বর্ধন করা হলেও প্রথম প্রতিষ্ঠার সময় এটি সাদা চুনের আল্টো পলিসে ধবধবে সাদা রঙে সাতটি গম্বুজের সমন্বয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল মসজিদটি। পরবর্তীতে অনেক পুরনো হয়ে গেলে ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে মসজিদটি। তারপরই ২০০৬ সালে স্থায়ীভাবে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা  হয়। 


বিজ্ঞাপন


মসজিদটি পুনর্নির্মাণের সময় আট হাজার মুসল্লির অনুপাতে নির্মাণ করা হয়। সাপ্তাহিক জুম্মার নামাজসহ বছরের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিনগুলোতে বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় অসংখ্য মুসল্লি ভিড় জমান এই মসজিদে। আট হাজার ধারণ ক্ষমতার মসজিদটিতে প্রায় বিশ-বাইশ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে জামাত আদায় করতে পারেন। 

বেলাব মসজিদ

মসজিদটি উয়ারী বটেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের নিকটবর্তী হওয়ায় প্রচুর দর্শনার্থী এখানে আসেন।

কিভাবে যাবেন
যারা ঢাকা থেকে যাবেন- তারা বাস বা ট্রেন উভয় মাধ্যমেই যেতে পারেন। গুলিস্তান বা আব্দুল্লাহপুর থেকে ভৈরব যাওয়ার বাসে উঠলে দ্রুত সময়ে যাওয়া যাবে। এছাড়া ঢাকা থেকে নরসিংদী হয়েও যাওয়া যায়। ভৈরব হয়ে গেলে মরজাল বাসস্ট্যান্ড নেমে সিএনজি করে সরাসরি বেলাব বাজার যাওয়া যাবে। 

ট্রেনে আসলে নরসিংদী রেলস্টেশন নেমে অটো বা রিক্সা করে ভেলানগর। সেখান থেকে ভৈরবের বাসে উঠে বারৈচা বাস্ট্যান্ড নেমে সিএনজি করে সরাসরি বেলাব বাজার যাওয়া যাবে।

একে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর