১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবার থেকে আলাদা হয়ে ভারত রয়ে যাওয়া শিখ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা মিলেছে পাকিস্তানে বসবাসকারী মুসলিম বোনের। পাকিস্তানে অবস্থিত শিখ সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থল গুরুদুয়ারা দরবার সাহিব করতারপুরে তাদের সাক্ষাৎ হয়।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভি বিষয়টি নিশ্চিত করে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র জানায়, শিখ ওই ভাইয়ের নাম ওমরজিত সিং এবং বোনের নাম কুলসুম আকতার। কুলসুমের জন্ম হয় দেশ ভাগ হওয়ার পরে। দেশভাগের সময় ওমরজিত ও তার আরেক বোন বাবা-মায়ের সঙ্গে পাকিস্তানে আসতে পারেননি।
বোন কুলসুমের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আটারি ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন ওমরজিত সিং। ভাইকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার ৬৫ বছর বয়সী মুসলিম বোন কুলসুম। বোনের চোখে তখন আনন্দাশ্রু দেখা যায়।
ফয়সালাবাদের বাসিন্দা কুলসুম আকতার এ প্রসঙ্গে স্থানীয় মিডিয়াকে জানান, তার বাবা-মা পাকিস্তানে স্থায়ী হওয়ার পর তার জন্ম। কিন্তু তিনি তার মায়ের মুখে ভারতে রয়ে যাওয়া তার দুই ভাই-বোনের কথা অনেক বার শুনেছেন। যখন তার মা দুই সন্তানের স্মৃতিচারণ করতেন, তখন কাঁদতে থাকতেন।
তবে কুলসুম আকতার কখনো ভাবেননি যে তিনি তার ভাই ও বোনের সাক্ষাৎ পাবেন। তবে তার বাবার বন্ধু সরদার দারা সিং কয়েক বছর আগে ভারত থেকে পাকিস্তানে আসেন এবং কুলসুম আকতারের সাথে দারা সিংয়ের সাক্ষাৎ হয়।
বিজ্ঞাপন
কুলসুম আকতার বলেন, ‘সাক্ষাতে আমি বাবার বন্ধু দারা সিংকে ভারতে থাকা আমার ভাই-বোনের কথা জানালাম। পরে তিনি ভারত ফিরে গিয়ে আমার ভাই-বোনের সন্ধান করলেন এবং আমাদের সুখবর দিলেন যে, ভাই এখনো জীবিত আছেন। কিন্তু বোনটি মারা গেছেন। আমার ভাই-বোনকে এক শিখ দম্পতি লালন-পালন করতেন, ফলে ভাইয়ের নাম হয়ে যায় ওমর জিত সিং।’
সন্ধান পাওয়ার পরই কুলসুম আকতার ভাইয়ের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা সাক্ষাতের জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েন।
ভাই ওমর জিত সিং করতাপুর এসেছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও তীব্র কোমর ব্যথা সত্ত্বেও ফয়সালাবাদ থেকে করতাপুর আসেন কুলসুম আকতার। এরপরই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভাই-বোনের কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ লাভ হয়।
After 75 years, sister, brother meet at Gurdwara Darbar Sahib Kartarpur, tears, emotions and love. #kartarpurcorridor @PmuKartarpur pic.twitter.com/TGinyqo94S
— Asif Mehmood (@asifmehmoodpak) September 9, 2022
এ প্রসঙ্গে ভাই ওমর জিত জানান, যখন তিনি জানেন যে তার জন্মদাতা বাবা-মা পাকিস্তানে থাকেন এবং তারা মুসলমান, তখন তিনি খুব পেরেশান হন ও দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।
তিনি বলেন, ‘তবে এটি জেনে খুব আনন্দ অনুভব করি যে আমার আরো তিন ভাই এখনো জীবিত আছেন। অবশ্য ভাইদের একজন জার্মান থাকতেন, তিনি মারা গেছেন।’
ওমর জিত সিংয়ের শেষ ইচ্ছা- জীবনের অন্তিম মুহূর্তটা পরিবারের সাথে কাটাবেন। এজন্য হয়ত পাকিস্তানে চলে আসবেন তিনি। সূত্র: ডেইলি জং

