সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য পোস্টে আমরা কমেন্ট করি। কখনো প্রশংসা, কখনো পরামর্শ, কখনো কাউকে ভালো কোনো কাজের প্রতি উৎসাহ দিতে কয়েকটি কথা লিখি। আমাদের কাছে এসব শব্দ হয়তো খুবই সাধারণ। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের বলা ও লেখা প্রত্যেক কথার গুরুত্ব রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে একজন সদাতৎপর প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা কাফ: ১৮)
আয়াতটি মনে করিয়ে দেয়, আমাদের কথাবার্তা যেমন হিসাবের আওতায়, তেমনি আমরা যা লিখি, সেটিও দায়িত্বের বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে লেখা কয়েকটি শব্দও তাই হেলাফেলার নয়।
রাসুল (স.) বলেছেন, ‘ভালো কথা বলাও সদকা।’ (সহিহ বুখারি)
আরেক হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথ দেখায়, সে ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১৮৯৩)
আরও পড়ুন: ভালো কাজের পথপ্রদর্শক যে প্রতিদান পাবেন
এই হাদিসগুলোর আলোকে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভালো ও উপকারী মন্তব্যেও সওয়াব হয়। কেউ নামাজের গুরুত্ব নিয়ে একটি পোস্ট করলেন। সেখানে একটি সুন্দর মন্তব্য পড়ে অন্য কেউ নামাজের ব্যাপারে সচেতন হলেন। কোনো উপকারী ইসলামি জ্ঞান শেয়ার করার পর একটি গঠনমূলক মন্তব্যও অন্যদের তা পড়তে বা জানতে উৎসাহিত করতে পারে। এমন ক্ষেত্রে মন্তব্যকারী নেক কাজে উৎসাহ দেওয়ার সওয়াবের অংশীদার হতে পারেন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি- প্রতিটি ভালো কমেন্টই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদকায়ে জারিয়া হয়ে যায় না। সদকায়ে জারিয়া হলো এমন আমল, যার উপকার অব্যাহত থাকে। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল ছাড়া- সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা উপকার লাভ করা যায় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম: ১৬৩১)
তাই কোনো মন্তব্যের মাধ্যমে এমন উপকারী জ্ঞান বা নেক কাজের দিকনির্দেশনা ছড়িয়ে পড়লে, যার উপকার দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে, সেটি সদকায়ে জারিয়ার সওয়াবের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সুযোগ রাখে। তবে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্যকে নিশ্চিতভাবে সদকায়ে জারিয়া বলা ঠিক নয়। এর প্রকৃত প্রতিদান আল্লাহই ভালো জানেন।
আরও পড়ুন: অবিশ্বাসীদের ভালো কাজের পুরস্কার কী?
সোশ্যাল মিডিয়ার একটি মন্তব্যের প্রভাবও অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে। একটি ভালো কথা কেউ নিজে গ্রহণ করতে পারেন, অন্যের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন কিংবা তা থেকে কোনো নেক কাজে উৎসাহিত হতে পারেন। বিপরীতে ভুল তথ্য, কটু কথা বা অপমানজনক মন্তব্যও মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই অনলাইনে লেখার সময় সত্যতা, প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।
একজন হতাশ মানুষ হয়তো একটি আন্তরিক মন্তব্য পড়ে সাহস ফিরে পেতে পারেন। কেউ একটি তথ্যপূর্ণ মন্তব্য থেকে উপকারী কিছু জানতে পারেন। আবার কারও প্রশ্নের সুন্দর উত্তর তাকে ভালো কোনো কাজের দিকে এগিয়ে দিতে পারে। আমাদের চোখে এসব ছোট বিষয় হলেও এর মাধ্যমে যদি কোনো নেক কাজের সূচনা হয়, তাহলে সেই ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়ার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ নেই।
সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে তাই কমেন্ট বক্সকেও দায়িত্বের জায়গা হিসেবে দেখা দরকার। প্রতিটি মন্তব্য লেখার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন- আমি যা লিখছি, তা কি সত্য? এটি কি কারও উপকার করতে পারে? কাউকে ভালো কিছুর দিকে উৎসাহিত করবে?
হয়তো আপনার লেখা একটি ছোট্ট বাক্য কারও জীবনে ভালো পরিবর্তনের কারণ হয়ে যাবে। সেই ভালো কাজের পেছনে আপনার সামান্য অবদানও আল্লাহর কাছে মূল্যহীন হবে না। অতএন, কমেন্ট করার আগে একটু ভাবুন। আপনার কয়েকটি শব্দই হয়তো কারও কল্যাণের দরজা খুলে দিতে পারে।




