১৯ শতকের শেষে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় আন্দোলনের হোতা কাদিয়ানি বা আহমদীয়া সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
তবে ধর্মমন্ত্রী অনুষ্ঠানে স্বশরীরে হাজির ছিলেন না। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পাঠানো লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।
বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছি— আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও সর্বশেষ নবী। তারপর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। এটি ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা এবং প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের ঈমানের অপরিহার্য ভিত্তি।’
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের এই সম্মেলনের চেতনা কেবল উলামায়ে কেরামের নয়; বরং তা প্রতিটি তাওহীদী মুসলমানের ঈমানি চেতনা। আকিদা-ই-খতমে নবুওয়তের সঙ্গে আমি পূর্ণ একমত পোষণ করছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই সম্মেলন থেকে উলামায়ে মাশায়েখের পক্ষ হতে সরকারের কাছে যেসকল যৌক্তিক ও ঈমানি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে আমি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন ও উলামায়ে কেরামের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলামায়ে কেরামের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। সরকার আপনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ও ঈমানি দাবিগুলো বিশেষ বিবেচনায় নিবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।’
লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা ও তাদের যাবতীয় প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই ঐতিহাসিক ‘জাতীয় উলামা-মশায়েখ সম্মেলনে’ স্বশরীরে উপস্থিত থাকার তীব্র ইচ্ছা আমার ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডাক্তারদের পরামর্শে আমি সরাসরি উপস্থিত হতে পারিনি। তবে অন্তরের আকুলতা ও ঈমানি তাগিদ থেকে আমার লিখিত বক্তব্য ও বার্তা আপনাদের সম্মুখে প্রেরণ করছি। এই মহতি আয়োজনে আমাকে সম্পৃক্ত করার জন্য আয়োজকবৃন্দকে আন্তরিক মুবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই সম্মেলন আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের এই মোবারক কাফেলায় যুক্ত হতে পেরে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে লাখো কোটি শুকর আদায় করছি— আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের এই পবিত্র মজলিস থেকে আমার সুস্থতার জন্য খাস দোয়ার আরজ রাখছি।’
এএইচ




