শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

হাই উঠলে মুখ ঢাকার পরও যে সুন্নত বাকি থাকে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

হাই উঠলে মুখ ঢাকার পরও যে সুন্নত বাকি থাকে

হাই তোলা মানুষের স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে ঘুমের আগে-পরে বা ক্লান্তির সময় হাই আসতে পারে। তবে হাই উঠলে ইসলামে কিছু শিষ্টাচার মেনে চলার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুখ ঢাকার বিষয়টি অনেকেরই জানা। কিন্তু এর আগেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা হাঁচি দেয়া পছন্দ করেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। কাজেই কেউ হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলবে, যারা তা শুনবে তাদের প্রত্যেককে তার জবাব দেয়া ওয়াজিব হবে। আর হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়, তাই যথাসম্ভব তা রোধ করা উচিত। কারণ কেউ যখন মুখ খুলে হা করে তখন শয়তান হাসে।’ (সহিহ বুখারি: ৬২২৩)

অর্থাৎ হাই এলে প্রথমে তা যথাসাধ্য প্রতিহত করার চেষ্টা করতে হবে। হাই চলে এলে এরপর মুখ ঢেকে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে কি নামাজ ভেঙে যাবে?

হাই থামানো না গেলে মুখ ঢাকবেন

হাই প্রতিহত করার চেষ্টা করার পরও তা চলে এলে মুখ ঢেকে নিতে হবে।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন হাই তোলে, তখন সে যেন তার মুখের ওপর হাত রাখে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৯৯৫)

তাই হাই এলে মুখ হা করে না রেখে যথাসাধ্য তা প্রতিহত করতে হবে। সম্ভব না হলে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: নামাজের পূর্ণ স্বাদ ও তৃপ্তি পেতে যা করবেন

নামাজের সময় আরও সতর্কতা

নামাজের মধ্যেও হাই আসতে পারে। এ সময়ও তা প্রতিহত করার চেষ্টা করতে হবে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নামাজে হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। তোমাদের কারো হাই এলে সে যেন যথাসাধ্য তা প্রতিহত করে।’ (জামে তিরমিজি: ৩৭০)

তাই নামাজের মধ্যে হাই এলে যথাসাধ্য তা থামানোর চেষ্টা করতে হবে। হাই চলে এলে মুখ ঢেকে নিতে হবে।

হাইয়ের পর নির্দিষ্ট কোনো দোয়া আছে?

হাই উঠলে ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ বা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ পড়াকে অনেকেই সুন্নত মনে করেন। তবে হাই তোলার পর এসব পড়ার নির্দিষ্ট নির্দেশ সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না। তাই এগুলোকে হাইয়ের সুন্নত আমল হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়।

হাই তোলার ক্ষেত্রে নবীজি (স.)-এর নির্দেশনা হলো- যথাসাধ্য হাই প্রতিহত করা এবং হাই চলে এলে মুখ ঢেকে নেওয়া। স্বাভাবিক এই বিষয়েও ইসলামের শেখানো শিষ্টাচার মেনে চলা একজন মুসলিমের সুন্দর অভ্যাস।

তথ্যসূত্র: বুখারি: ৬২২৩, ৬২২৬; মুসলিম: ২৯৯৫; তিরমিজি: ৩৭০

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর