আগামীকাল সোমবার (২৫ মে, ৮ জিলহজ) মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সারা বিশ্বের লাখো মুসলিমের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে মিনা প্রান্তর। তবে হাজিদের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রোববার (২৪ মে) রাত থেকেই মিনার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন হজযাত্রীরা।
মিনায় যাত্রার সঠিক সময়
ফিকহবিদদের মতে, ৮ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনার উদ্দেশে রওনা হওয়া মোস্তাহাব। সূর্যোদয়ের আগে কিংবা ৭ জিলহজ মিনায় চলে যাওয়া অনুত্তম। তবে মুআল্লিম বা হজ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনে আগে যেতে বাধ্য হলে তা দোষণীয় নয়। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৩/৪০২; আলবাহরুর রায়েক: ২/৩৩৫)
হজের ইহরাম ও নিয়ত
হাজিরা হজের ইহরাম বেঁধে ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইক হাজ্জান’ (হে আল্লাহ, আমি হজের উদ্দেশ্যে আপনার ডাকে সাড়া দিচ্ছি) বলে নিয়ত করেন। ইহরামের বিধিনিষেধগুলো মেনেই তাদের মিনায় অবস্থান করতে হয়।
আরও পড়ুন: আরাফার ময়দানে কতক্ষণ থাকতে হবে, কী দোয়া পড়বেন- সম্পূর্ণ গাইড
বিজ্ঞাপন
মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সুন্নত
৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় করা সুন্নত। হজরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) ৮ জিলহজ মিনায় গমন করেন এবং সেখানে জোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ফজর নামাজ আদায় করেন। (সহিহ মুসলিম: ১/৩৯৬)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) বলেন, ‘সুন্নত হলো, ইমাম মিনায় জোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও পরদিন ফজর নামাজ আদায় করবেন, এরপর সেখান থেকে আরাফার উদ্দেশে রওনা হবেন।’ (মানাসিক: ১০৪; রদ্দুল মুহতার: ২/৫০৩)
উল্লেখ্য, মক্কার বাইরে থেকে আসা হাজিরা মুসাফির হিসেবে মিনায় জোহর, আছর ও এশা নামাজ কসর (চার রাকাতের বদলে দুই রাকাত) আদায় করবেন, যা রাসুল (স.)-এর সুন্নাহ।
মিনায় রাতযাপনের বিধান ও আমল
৮ জিলহজ দিবাগত রাত মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। আর ৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ সকাল পর্যন্ত পুরো সময় মিনায় অবস্থান করা মোস্তাহাব। (গুনইয়াতুন নাসিক: ১৪৬) মিনায় অবস্থানের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। হাজিদের উচিত এই সময় জিকির, ইস্তেগফার, দরুদ ও তেলাওয়াতে মশগুল থাকা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তারা নির্ধারিত কয়দিনে আল্লাহর নাম স্মরণ করবে...’ (সুরা হজ: ২৮)
আরও পড়ুন: হজের সময় মক্কার যেসব স্থানে দোয়া করবেন
মিনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব
মক্কা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিনা প্রান্তর প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, মিনার ‘মসজিদে খয়েফ’-এ সত্তরজন নবী নামাজ আদায় করেছিলেন। সম্ভব হলে এই মসজিদে নামাজ আদায় করা বিশেষ সওয়াবের কাজ। উল্লেখ্য, হজের অন্যতম বিধান শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ বা ‘রমি’ করার আমলটিও মিনাতেই পালন করা হয়, যা ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ সম্পন্ন করতে হয়।
পরবর্তী করণীয়: হজের মূল রুকন আরাফাহ
৯ জিলহজ (মঙ্গলবার, ২৬ মে) হাজিরা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন, যেখানে অবস্থান করা হজের প্রধান ফরজ রোকন। এদিন ‘হজের খুতবা’ দেওয়া হবে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান শেষে হাজিরা মুজদালিফার দিকে রওনা হবেন। সেখানে রাতযাপন শেষে পুনরায় মিনায় ফিরে জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে ১২ জিলহজ শেষ হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
আল্লাহ তাআলা হাজিদের হজ কবুল করুন এবং একে ‘হজে মাবরুর’ হিসেবে গ্রহণ করুন। আমিন।




