রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

উপমহাদেশে ব্যতিক্রমী ঈদ: পাকিস্তান মিলল সৌদিতে, ভারত-বাংলাদেশ আলাদা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

উপমহাদেশে ব্যতিক্রমী ঈদ: পাকিস্তান মিলল সৌদিতে, ভারত-বাংলাদেশ আলাদা

ইসলামি শরিয়তে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করেই রোজা ও ঈদ পালনের বিধান নির্ধারিত। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সব দেশে একই রাতে চাঁদ দেখা যায় না; আর এখানেই তৈরি হয় তারিখের ভিন্নতা। এবার সেই ভিন্নতা দেখা দিয়েছে উপমহাদেশের ভেতরেই। সাধারণত বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান- তিনটি দেশ একই দিনে ঈদ পালন করে। কিন্তু এবার পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে একই দিনে আগামী ২৭ মে (বুধবার) ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। আর চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশে ঈদ হবে একদিন পরে, ২৮ মে (বৃহস্পতিবার)।

সৌদি আরবের সঙ্গে একই দিনে পাকিস্তান

গত রোববার (১৭ মে) করাচিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রুয়েত-ই-হিলাল কমিটির বৈঠকে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল খবির আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। চাঁদ দেখা যাওয়ায় পাকিস্তানে আগামী ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দিনে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও ঈদুল আজহা পালিত হবে।

আরও পড়ুন: সবার আগে ঈদের তারিখ ঘোষণা করল তিউনিসিয়া ও তুরস্ক

ভারত ও বাংলাদেশে ঈদ ২৮ মে

ভারতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় দিল্লির কেন্দ্রীয় রুয়েত-এ-হিলাল কমিটি আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) ঈদুল আজহা উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ মে থেকে দেশটিতে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশেও একই পরিস্থিতি। দেশে সাধারণত নিজস্ব চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গতকাল চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আজ সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা পালনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

কেন পাকিস্তানে চাঁদ দেখা গেল, বাংলাদেশ-ভারতে নয়

বিষয়টি কাকতালীয় নয়, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। চাঁদের দৃশ্যমানতা নির্ভর করে তার বয়স ও অবস্থানের উপর। কখনো কখনো সূর্যাস্তের সময় বাংলাদেশের আকাশে চাঁদের বয়স দেখার উপযুক্ত না হলেও এক-দুই ঘণ্টা পরে পাকিস্তানের আকাশসীমায় তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ভিজিবিলিটি কার্ভ’। এ কারণেই একই উপমহাদেশে থেকেও পাকিস্তান অনেক সময় মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে চাঁদ দেখতে পায়।

আরও পড়ুন: যে ১০ কারণে বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ সম্ভব নয়

এছাড়া পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁদ দেখা কমিটিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীদের যুক্ত করেছে। এতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাঁদের অবস্থান বিচার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে ভারত ও বাংলাদেশ এখনো মূলত খালি চোখে চাঁদ দেখার প্রথাগত পদ্ধতিকেই প্রাধান্য দেয়।

বিরল হলেও নজিরবিহীন নয়

ঘটনাটি একেবারে প্রথম নয়, তবে বিরল। অতীতেও দেখা গেছে পাকিস্তানের কোনো কোনো প্রদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেছে। তবে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় কমিটি পুরো দেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে একই দিনে ঈদের ঘোষণা দেওয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যায়নি। প্রতি এক থেকে দেড় দশকে অন্তত একবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়; এবার সেটিই হয়েছে। তবু কোরবানির এই মহান ইবাদতে মুসলিম উম্মাহর হৃদয় একই সুরে বাঁধা- আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সবকিছু উৎসর্গ করার অঙ্গীকারে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর