পবিত্র হজের সফরে মৃত্যু একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং সৌভাগ্যের বিষয়। প্রতি বছর হজের মৌসুমে মক্কা ও মদিনায় অনেক হাজি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সহিহ হাদিসে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর জন্য এমন এক অনন্য পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে, যা পরকালে তাঁর বিশেষ মর্যাদার পরিচয় দেবে। কেয়ামতের দিন তিনি সত্যিই ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি দিতে দিতে পুনরুত্থিত হবেন কি না- তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আরাফাতে এক ব্যক্তি উট থেকে পড়ে মারা যান। তখন রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর দাফন ও কাফন সম্পর্কে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দিয়ে বলেন- ‘তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দ্বারা গোসল দাও এবং তাকে তার দুই কাপড়েই কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং মাথা ঢাকবে না। কেননা, কেয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।’ (সহিহ বুখারি: ১২৬৫, সহিহ মুসলিম: ১২০৬)
বিজ্ঞাপন
উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় ইসলামি চিন্তাবিদগণ কয়েকটি মৌলিক বিষয় উল্লেখ করেছেন-
১. ইবাদত অবস্থায় পুনরুত্থান: শরিয়তের একটি সাধারণ মূলনীতি হলো- মানুষ যে অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে অবস্থায় কেয়ামতের দিন উত্থিত হবে। ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি যেহেতু হজের মহান ইবাদতরত ছিলেন, তাই আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাঁকে সেই ইবাদতের অবস্থাতেই পুনরুত্থিত করবেন; এর প্রকৃত ধরন ও বাস্তবতা আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক ভালো জানেন।
আরও পড়ুন:
২. তালবিয়া পাঠের হাকিকত: হাদিসে ‘ইউলাব্বি’ (তালবিয়া পাঠরত অবস্থায়) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি কেয়ামতের ময়দানে ওই ব্যক্তির বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের একটি বরকতময় অবস্থা হবে। কেয়ামতের দিন যখন মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় কবর থেকে উঠবে, তখন এই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হাজির বেশে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত হবেন।
৩. দাফনের বিশেষ নিয়ম: রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী এই হাজির শরীর ও কাপড়ে সুগন্ধি না লাগানো এবং মাথা না ঢাকার বিশেষ কারণ হলো- শরিয়তের দৃষ্টিতে তাঁর ইহরামের হুকুম তখনও বহাল ছিল। তিনি কবরেও একজন ইহরামধারী (মুহরিম) হিসেবেই শায়িত হলেন এবং হাশরের ময়দানেও সেই মহিমান্বিত বেশেই উপস্থিত হবেন।
আরও পড়ুন:
হজের সফরে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা নিঃসন্দেহে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বড় নেয়ামত। এটি ইসলামে উচ্চ মর্যাদার মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত, যা কেয়ামতের ময়দানেও ব্যক্তিকে সবার মাঝে সম্মানিত করে তুলবে।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ১২৬৫; সহিহ মুসলিম: ১২০৬; সুনান আবু দাউদ; ফাতহুল বারী (ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি)।




