রাগ মানুষের স্বভাবজাত একটি অনুভূতি। তবে নিয়ন্ত্রণ হারালে এই রাগ সম্পর্ক নষ্ট, ভুল সিদ্ধান্ত এবং বড় ধরনের পাপের কারণ হতে পারে। ইসলামে তাই রাগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ (স.) এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
হাদিসে এসেছে, প্রচণ্ড রাগান্বিত এক ব্যক্তিকে দেখে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আমি একটি কালিমা জানি, যদি এ লোকটি তা পড়তো, তবে তার রাগ দূর হয়ে যেত। অর্থাৎ যদি লোকটি ‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম’ পড়তো। (সহিহ বুখারি: ৬১১৫)
বিজ্ঞাপন
রাগের সময় পড়ার দোয়া
আরবি: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ: আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম
অর্থ: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: যে দোয়া পড়লে সবরকম ক্ষতি থেকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন
কেন এই দোয়া কার্যকর?
ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, রাগের সময় মানুষের মনে শয়তানের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে। ফলে শয়তানের প্ররোচনা দূর হয় এবং মন ধীরে ধীরে প্রশান্ত হয়ে আসে।
রাগ নিয়ন্ত্রণে নবীজি (স.)-এর দিকনির্দেশনা
রাসুলুল্লাহ (স.) রাগ নিয়ন্ত্রণে কিছু ব্যবহারিক উপায়ও শিখিয়েছেন-
- চুপ থাকা: রাগের সময় কথা না বলা। (মুসনাদে আহমদ: ২১৩৬)
- অবস্থান পরিবর্তন: দাঁড়িয়ে থাকলে বসা, আর বসে থাকলে শুয়ে পড়া। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮২)
- অজু করা: অজু করে নিজেকে শান্ত করা। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮৪)
প্রকৃত শক্তি শারীরিক ক্ষমতায় নয়, বরং রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যেই নিহিত। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘প্রকৃত শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়, বরং সে-ই শক্তিশালী যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করে।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১৪)
তাই রাগের মুহূর্তে কোনো অঘটন ঘটানোর আগেই দ্রুত ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম’ পড়ে আল্লাহর আশ্রয় নেওয়াই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পথ।




