লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি। এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া ইসলাম সমর্থন করে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে শায়খ আহমাদুল্লাহ এ ব্যাপারে একটি পোস্ট করেছেন। তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
বিজ্ঞাপন
ইউরোপের উন্নত জীবনের আশায় উত্তাল সাগরে নৌকা ভাসিয়েছিল একদল বাংলাদেশি যুবক। কিন্তু সেই অলীক স্বপ্নের কাছে পৌঁছানো হয়নি তাদের।
তার আগেই নিভে গেছে ২২টি জীবন। তাদের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে সাগরে।
এই ঘটনা এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন পরপরই এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে আর আমরা স্তম্ভিত হই।
ইউরোপের অলীক স্বপ্নে বিভোর হয়ে, জীবন হাতে নিয়ে এমন দুঃসাহসী অভিযানে যারা পা বাড়ায়, তারা কেউই সম্ভবত নিঃস্ব নয়।
বিজ্ঞাপন
দালালের হাতে যে টাকার বান্ডিল গুঁজে দিয়ে তারা উত্তাল সাগরে জীবন ভাসায়, চাইলে ওই টাকা দিয়ে তারা দেশেই সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
কিন্তু ওই ছোট পেশায় যে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা যে উচ্চাভিলাষী। আমাদের স্বপ্ন যে সাধ্যের চেয়েও অনেক বড়। ইউরোপের চোখ ধাঁধানো আলোর মাঝেই যে আমরা খুঁজে ফিরি সুখের মঞ্জিল!
কিন্তু আমরা এমন স্বপ্ন কেন দেখি, যে স্বপ্ন ছুঁতে গেলে হায়াতের সীমানা পাড়ি দিতে হয়! যে স্বপ্ন ছুঁতে গিয়ে নিজের লাশটাও দেশের মাটি থেকে বঞ্চিত হয়!
জীবনকে চূড়ান্ত হুমকির মাঝে ফেলে উপার্জনের জন্য পা বাড়ানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি বরং প্রকারান্তরে আত্মহত্যার শামিল। মহান আল্লাহ বলেছেন, আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে দিকে ঠেলে দিও না (বাকারা ১৯৫)।
এইসব ঘটনা বারবার আমাদেরকে সতর্ক করে যায়। কিন্তু আমরা সতর্ক হই না। হাই না, কারণ, উচ্চাভিলাষের রঙিন পর্দায় আমাদের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে!
ভোগবাদী সভ্যতা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত এভাবেই এক অবাস্তব উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে তাড়া করে ফিরছে। যাতে আমরা খেই হারিয়ে ফেলছি। আমরা হারিয়ে ফেলছি জীবনের মানে।
কিন্তু এটা মুমিনের চরিত্র নয়। মুমিন নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে পারে না। মুমিনের স্বপ্ন থাকবে, কিন্তু সে উচ্চাভিলাষী হবে না।
যারা এখনো এই বিপদসংকুল পথে পা বাড়ানোর চিন্তা করছেন, ফিরে আসুন। কারণ, অবৈধ পথে ইউরোপের কথিত রঙিন জীবনের চেয়ে দেশের মাটিতে বাবা-মার স্নেহছায়ায় ঘাম ঝরানো ডালভাত অনেক তৃপ্তিদায়ক।
জেবি

