বাড়ি বা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নামাজ কসর হবে কি না, তা নির্ভর করে যাত্রার দূরত্ব এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আপনার শরয়ি অবস্থানের ওপর। এ বিষয়ে ফিকহ শাস্ত্রের সিদ্ধান্ত নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
যাত্রাপথে কসরের বিধান
যদি বাড়ি থেকে আপনার বর্তমান অবস্থানের দূরত্ব সফরসম (কমপক্ষে ৪৮ মাইল বা ৭৭.২৫ কিলোমিটার) হয়, তাহলে এলাকা ত্যাগ করার পর থেকে গন্তব্যের সীমানায় প্রবেশের আগ পর্যন্ত পথিমধ্যে আপনাকে নামাজ কসর করতে হবে। অর্থাৎ, আপনি মাঝপথে ‘মুসাফির’ হিসেবে গণ্য হবেন।
কেন এই বিধান? (বিস্তারিত প্রেক্ষাপট)
পথিমধ্যে কসর করার এই নিয়মটি দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে-
১. গন্তব্য যখন নিজ বাড়ি (ওয়াতানে আসলি)
নিজ বাড়ি বা স্থায়ী ঠিকানায় পৌঁছানো মাত্রই একজন ব্যক্তি ‘মুকিম’ হয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর আর কসর করা যায় না, এমনকি আপনি খুব অল্প সময়ের জন্য গেলেও। তবে বাড়ি পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত রাস্তার পুরো সময়টাতে আপনি মুসাফির থাকবেন এবং কসর করবেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: সফরে নামাজ: কসর না করে পুরো পড়লে সহিহ হবে কি?
২. গন্তব্য যখন কর্মস্থল (ওয়াতানে ইকামত)
কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে কসর হবে কি না, তা নির্ভর করে সেখানে আপনার পূর্বের অবস্থানের ওপর-
কর্মস্থলে মুকিম হলে: আপনি যদি কর্মস্থলে অতীতে কখনো একটানা ১৫ দিন থাকার নিয়ত করে থাকেন, তবে সেটি আপনার জন্য ‘ওয়াতানে ইকামত’ হয়ে গেছে। ফলে বাড়ি থেকে সেখানে যাওয়ার পথে আপনি মুসাফির থাকবেন (কসর করবেন), কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানো মাত্রই আপনি মুকিম হয়ে যাবেন (পূর্ণ নামাজ পড়বেন)।
কর্মস্থলে মুসাফির থাকলে: যদি কর্মস্থলে আপনার কখনো একটানা ১৫ দিন থাকার নিয়ত করা না হয়, তবে আপনি সেখানেও মুসাফির। এক্ষেত্রে বাড়ি থেকে যাওয়ার পথ এবং কর্মস্থলে অবস্থান পুরোটা সময়ই আপনি কসর করবেন।
আরও পড়ুন: নিজের বাড়িতে বেড়াতে গেলে নামাজ কসর করতে হবে?
কখন সফরের হুকুম শুরু ও শেষ হয়?
শুরু: আপনার বর্তমান বসতি বা শহরের এলাকা অতিক্রম করার পর থেকে সফরের বিধান শুরু হয়।
শেষ: গন্তব্যস্থলের (বাড়ি বা কর্মস্থল) সীমানায় প্রবেশ করা মাত্রই সফরের হুকুম রহিত হয়ে যায় এবং তখন থেকে পূর্ণ নামাজ পড়তে হয়।
দূরত্ব ৪৮ মাইল বা তার বেশি হলে বাড়ি যাওয়ার পথে বা বাড়ি থেকে কর্মস্থলে আসার পথে আপনি মুসাফির। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আপনাকে নামাজ কসর করতে হবে। গন্তব্য যদি আপনার স্থায়ী নিবাস বা ১৫ দিন থাকার নিয়ত করা কর্মস্থল হয়, তবে সেখানে প্রবেশের পর থেকে পূর্ণ নামাজ আদায় করবেন।
(শরহুল মুনইয়াহ: ৫৩৬; তাতারখানিয়া: ২/৪৯৩; আলমুহিতুল বুরহানি: ২/৩৮৭; ফাতহুল কাদির: ২/৮; আলবাহরুর রায়েক: ২/১২৮, ২/১৩৬; আদ্দুররুল মুখতার: ২/১২১; হাশিয়াতুত তহতাবি আলাদ্দুর: ৩/৩৩৬)

