রমজান সম্পর্কে এবং রোজার ফজিলত সম্পর্কে জানতে চাইলে বারিধারা বাইতুল আতিক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আমিরুল ইসলাম নধভী ঢাকা মেইলকে বলেন, রোজা মুমিনের জন্য ঢালস্বরূপ। যেমন একজন ব্যক্তি শত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল ব্যবহার করে, তেমনি রোজা শয়তানের অশুভ চক্রান্ত ও বিভিন্ন গুনাহ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। এভাবেই রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জিত হয়।
তিনি বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অসংখ্য শুকরিয়া যে তিনি আমাদের রহমত, বরকত ও মাগফিরাতময় রমজান মাস দান করেছেন। এই মাসের সিয়াম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করা হয়েছে: ‘ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন ক্বাবলিকুম লা আল্লাকুম তাত্তাকুন। অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ। তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরো বলেন, ‘এখানেই রোজার মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তাকওয়া অর্জন।’
তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি কুরআনের আরেকটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ‘ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানুত্তাকুল্লাহা হাক্কা তুকাতিহি ওয়া লা তামুতুন্না ইল্লা ওয়া আনতুম মুসলিমুন। অর্থাৎ, হে মুমিনগণ। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যথাযথভাবে এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাকওয়া সব ইবাদতের প্রাণ। তাকওয়া ছাড়া কোনো ইবাদতেই প্রকৃত প্রাণ সঞ্চারিত হয় না।’
হযরত আলী (রা.) এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘তাকওয়ার তিনটি দিক রয়েছে আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করা, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং পরকালের সফরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। এই তিনটি বিষয় মিলেই প্রকৃত তাকওয়া গড়ে ওঠে।’
বিজ্ঞাপন
ইমাম আমিরুল ইসলাম নধভী বলেন, ‘রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়। রোজা রেখে যদি কেউ মিথ্যা বলে, গালি-গালাজ করে, আমানতের খেয়ানত করে বা অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়, তবে তার রোজা পূর্ণতা পায় না। নামাজ ত্যাগ করা, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা কিংবা বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় রোজা পালন করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। রোজার আদব ও হক যথাযথভাবে আদায় করতে পারলেই রোজা পরিপূর্ণ হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোজার দিনে অবহেলায় সময় কাটানো বা সারাদিন ঘুমিয়ে থাকা রোজার চেতনার পরিপন্থী। রমজান কুরআনের মাস। এই মাসেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং সুরাতুল কদরে ঘোষণা করেছেন যে কদরের রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে। তাই রোজার সঙ্গে কুরআনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।’
বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘কিয়ামতের দিন কুরআন তেলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশ করবে।’
শেষে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, ‘রোজাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার মাধ্যমে পালন করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেন সবাইকে তার বিধান মেনে পরিপূর্ণ আদবের সঙ্গে রোজা পালনের তাওফিক দান করেন।’
এম/এফএ

