শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইফতার ও সাহরির মাসনুন দোয়া 

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ইফতার ও সাহরির মাসনুন দোয়া 

পবিত্র রমজান মাসে সাহরি ও ইফতার উভয় সময়ই বিশেষ বরকতময়। সাহরি হলো রোজার প্রস্তুতির লগ্ন, আর ইফতার হলো সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দোয়া কবুলের অন্যতম সময়। তাই এ দুই সময়ের আমল ও দোয়া সম্পর্কে সহিহ জ্ঞান থাকা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি।

সাহরির শুরুতে কী দোয়া পড়বেন?

পবিত্র হাদিসে সাহরি শুরুর জন্য নির্দিষ্ট কোনো আলাদা দোয়া বর্ণিত হয়নি। তবে যেকোনো খাবার শুরু করার সাধারণ সুন্নাহ দোয়াই সাহরির শুরুতে পাঠ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (স.) আল্লাহর নাম নিয়ে (বিসমিল্লাহ বলে) খাবার গ্রহণ করতে বলেছেন। তিনি এই দোয়াও পড়তেন- بِسْمِ اللَّهِ وَبَرَكَةِ اللَّهِ উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের সঙ্গে (খাবার শুরু করছি)। (আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন: ৫/১৪৬) কিছু বর্ণনায় দোয়াটি এভাবেও এসেছে- بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের সঙ্গে (খাবার শুরু করছি)। (আল-হিসনুল হাসিন: ২৫৫)

মূলত সাহরির জন্য বিশেষ কোনো বানোয়াট দোয়া না খুঁজে সুন্নাহ অনুযায়ী আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার শুরু করাই যথেষ্ট। সাহরি কেবল একটি খাবার নয়, বরং এটি বরকত ও রহমতের এক মহিমান্বিত সূচনা।

আরও পড়ুন: নবীজির ইফতারে থাকত যেসব খাবার

ইফতারের সময়ের দোয়া

ইফতার হলো দোয়া কবুলের এক অনন্য সময়। নবীজি (স.) ইফতারের সময় এই দোয়াটি পড়তেন- اَللهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার উদ্দেশ্যেই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করেছি। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৮)

প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) ইফতারের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতেন- اَللهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِيْ وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِيْ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল-লাতি ওয়াসি’তা কুল্লা শাইইন আন তাগফিরা লি। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার সেই রহমতের অসিলায় প্রার্থনা করছি, যা সব কিছুকে পরিব্যাপ্ত করেছে—আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫৩)

বি.দ্র: যেকোনো খাবার গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ অথবা বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ ইত্যাদি দোয়া পাঠ করা যায়। মূলত বিসমিল্লাহ বলাই (আল্লাহর নাম নেওয়া) সাধারণ সুন্নাহ। এরপর হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়া পাঠ করা যায়।

সাহরি ও ইফতার দুটি সময়ই মুমিনের জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে সাহরি ও ইফতার পালন রমজানের আধ্যাত্মিক বরকত বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমাদের প্রতিটি সাহরি ও ইফতার যেন আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সোপান হয়—এই হোক আমাদের প্রার্থনা।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর